স্থানীয় সংবাদ

সম্পদ ও আয়ে পিছিয়ে মঞ্জু : এগিয়ে হেলাল

হেলালের স্ত্রী সম্পদে পিছিয়ে, মঞ্জু’র স্ত্রী এগিয়ে

কামাল মোস্তফা ঃ দক্ষিণাঞ্চলের সংসদীয় আসনগুলির মধ্যে খুলনাÑ২ নিয়ে সাধারণ জনগণসহ ভোটারদের আগ্রহ থাকে তুলনামূলক বেশি। খুলনা মহানগরীর বড় অংশজুড়ে থাকা আসনটির প্রার্থীদের নিয়েও থাকে জল্পনা-কল্পনা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে তাঁদের হলফনামা দাখিল করেছেন। এসব হলফনামায় প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়-ব্যয়ের হিসাব, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণ, ব্যাংক ঋণ, মামলা-মোকদ্দমার তথ্যসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। আসনটিতে মনোনয়ন জমা দেয়া ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
হলফনামা বিশ্লেষণে প্রার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, যা ভোটারদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলনের নগর সভাপতি মুফতি আমানুল্লাহ ও খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম। আওয়ামীলীগ নির্বাচনের বাহিরে থাকায় ভোটের লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির প্রার্থীর মধ্যে।
বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বার্ষিক আয় ও সম্পদ থেকে এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। হলফনামায় মঞ্জু পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি। অন্যদিকে হেলাল পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস পাশ। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ মিলে মঞ্জুর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে এক কোটি ৯৮ লাখ টাকার।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর জমা দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। ৭০ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে তাঁর নগদ অর্থ ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩০৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৭ টাকা, ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের মোটরযান, ৫২ হাজার টাকার গহনা, ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রিক পণ্য রয়েছে তার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪০ লাখ টাকার। তাঁর স্ত্রীর এক কোটি ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকার অস্থাবর এবং এক কোটি ৯০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে ৫ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।
পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তার বার্ষিক আয় ও সম্পদের পরিমাণ অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বেশ কম। বছরে তার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমা মিলিয়ে তার ১৭ লাখ টাকা রয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক এই নেতা রাজনৈতিকভাবে বেশ সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পদে পিছিয়ে আছেন।
অন্যদিকে শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আইন পেশা ও শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আর দেশের বাহির থেকে মাঝে মাঝে অনুদান বাবদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা বার্ষিক আয়ের ঘরে তিনি উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা তাঁর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় রয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ২৮টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে আনুমানিক প্রায় ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং অকৃষি জমি ও দালান মিলিয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তার স্ত্রীর নামে বর্তমানে আনুমানিক ৪৬ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ৪০ হাজার ৯৪১ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button