বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণে রাখতে হলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে – আজিজুল বারী হেলাল

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণে রাখতে হলে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনিই এ দেশের সকল স্তরে নারীদের সন্মান, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারী) দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের সেনহাটি খান এ সবুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক মহিলা দল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বিকাল ৪ ঘটিকায় সেনহাটি খান এ সবুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সন আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা দলের সভানেত্রী আলেয়া পারভীন।
প্রধান অতিথি আজিজুল বারী হেলাল তার বক্তব্যে বলেন প্রিয় সেনহাটির শরিষাপাড়ার সহজ সরল মানুষ আপনারা এই অপরাহ্ন সময় উপস্থিত হয়েছেন। আপনারা আজ যার আতœার মাগফেরাত কামনায় এখানে এসেছেন, তিনি বাংলাদেশের ঐক্যের প্রতীক, তিনি এমন একজন নেত্রী যার চিরবিদায়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা সভা করেছেন, বাংলাদেশের এমন কোনো রাজনৈতিক দল নেই যে দোয়া করেনি। আপনারা দেখেছেন বেগম খালেদা জিয়া কে যারা অসন্মান করতে চেয়েছিলেন তারা নিজেরাই অপমানিত হয়ে পলায়ন করেছেন। মহান আল্লাহ যাকে খুশি তাকে ইজ্জত দেন আবার কেড়েও নেন। বেগম খালেদা জিয়া লক্ষ লক্ষ মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিয়েছেন। আমরা দোয়া করি বেগম খালেদা জিয়াকে মহান আল্লাহ যেনো পরকালেও তাকে এভাবেই সন্মানিত করেন। আপনারা দেখেছেন বেগম খালেদা জিয়াকে মানুষ কতো নামে ডাকে। দেশনেত্রী, আপোষহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের মা, বাংলাদেশের ঐক্যের প্রতীক, আরো কতো নাম! বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের সকলের হৃদয়ের মণিকোঠায় আছেন এবং ভবিষ্যতেও হৃদয়েই থাকবেন ইনশাআল্লাহ। বেগম খালেদা জিয়া প্রথম বিধবা নারীদের জন্য বিধবা ভাতা চালু করেন, বয়স্ক ভাতা এবং মেয়েদের ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বিনা বেতনে পড়াশোনা ফ্রি করে দেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম ও পৃথিবীর ২য় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীরকর্মী হিসেবে আমাদের দিঘলিয়া অনেক কাজ করতে হবে। দিঘলিয়ার মানুষের কর্ম সংস্থান করতে হবে। এখানে স্টার জুট মিল চালু করতে হবে। এখানে ব্রীজটা চালু করতে হবে। দিঘলিয়ায় আরো অনেক উন্নয়ন করতে হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। মাদকের সাথে জড়িত যেই থাক সে যদি আওয়ামী লীগের লোক হয়, জামাতের লোক হয়, বিএনপিরও লোক হয় তার বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। কোন সন্ত্রাসী আমাদের দলের লোক হতে পারেনা। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা বা গীর্জাসহ যেই ধর্মীয় প্রধান থাকবেন তাদের বেতনের ব্যবস্থা বিএনপি করবে। পারিবারিক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমিও আপনাদের জন্য দোয়া করি। পরে তিনি সন্ধ্যা ৭ টায় গাজীরহাট মহাশ্মশান মন্দিরে সনাতনী ধর্মালম্বীদের নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন।
দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, এম সাইফুর রহমান মিন্টু, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক গাজী জাকির হোসেন, মোজাম্মেল শরীফ, মোল্লা নামজুল হক, মোল্লা মনিরুজ্জামান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সেতারা সুলতানা, রেজাউল ইসলাম রেজা, মোঃ রয়েল, কুদরত ই এলাহি স্পিকার, আব্দুল কাদের জনি, শেখ মোসলেম উদ্দিন মনিরুল গাজী, ফারুক হোসেন, মিঠু মোল্লাসহ নেতৃবৃন্দ।



