লোহাগড়া কোটাকোল বাজার সংলগ্ন লঞ্চঘাট এলাকায় অবৈধভাবে প্রভাবশালী মহলের বালুর ব্যবসা রমরমা

# মাদ্রাসার জায়গা দখল করে চলছে এ ব্যাবসা
# পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ এক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এই দখলদারিত্ব
# এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি
মোঃ নাজমুল হক, লোহাগড়া নড়াইল ঃ নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের প্রান কেন্দ্র মধুমতির পাড়ে গড়ে উঠা কোটাকোল বাজার তৎসংলগ্ন লঞ্চ ঘাটের পার্শবর্তী বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে দখল করে অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করছেন প্রভাবশালী কিছু মহল। নদীর তীরে ও সড়কের পাশে বালু স্তূপ করে বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকা বাসীর সূত্রে জানা যায়, কোটাকোল বাজার সংলগ্ন লঞ্চঘাটের কয়েক গজের মধ্যে সড়কের পাশে বিভিন্ন জায়গায় দিনরাত এ বালু বিক্রি করা হচ্ছে। এমন কি পার্শবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোটাকোল বায়তুল ফালাহ দাখিল মাদ্রাসার জায়গা দখল করে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই প্রভাবশালী চক্রটি। তবে, প্রতিষ্ঠান প্রধান বেলাল হোসেনকে একাধিক বার অবগত করালেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করায় প্রতিষ্ঠান প্রধান বেলাল হোসেনকে সন্দেহের চোখে দেখছেন অনেকে। টলিতে করে প্রতিদিন শত শত টলি বালু বিক্রি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ঐ সকল ব্যক্তিরা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পাশে বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করায় অত্র এলাকা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবার গুলো বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে। বিশেষ করে সড়কের প্রশস্ততা কম হওয়া, ক্ষিপ্রগতিতে গাড়ি চালানোয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রিষ্ঠানে গমনকারী কোমল মতি শিশুরা প্রায়শঃ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে । এছাড়া বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের কারণে পার্শবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোটাকোল বায়তুল ফালাহ দাখিল মাদ্রাসা, কোটাকোল বাজার সহ ঘাট রক্ষা করার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে বিগত বছর গুলোতে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অত্র এলাকায় দখলদারিত্বের মাধ্যমে নৌকাযোগে বালু এনে অবাধে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিকে, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর তীর থেকে বালু কেটে বিক্রি করায় বর্ষা মৌসুমে নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হচ্ছে এবং বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এছাড়া এভাবে নদীর পাড়, বেড়িবাঁধ দখল করে বালুর ব্যবসা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত এক মাসের ব্যাবধান প্রায় ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান ১২-১৩ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ বালুর ব্যবসা করছেন।নড়াইল ২ আসনের বিগত সাংসদদের বিষয়টি সরজমিনে প্রদর্শন করে অবহিত করলে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও অদ্যবধি কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।



