জাতীয় সংবাদ

শরীয়তপুরে বোমা বানানোর সময় দুজন নিহতের ঘটনায় আটক ৩

প্রবাহ রিপোর্ট : শরীয়তপুরের জাজিরায় ঘরে হাতবোমা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি একজন চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল শুক্রবার বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে জাজিরা থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে ৫৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার আলামত সংগ্রহে গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের ঘটনাস্থলে যান পুলিশের সিআইডির ক্রাইম সিন বিভাগের বোমা বিশেষজ্ঞ দল। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় গান পাউডার, জর্দার টিনের কৌটা, মার্বেল, তারকাটা, স্কচটেপ, পাথরের গুঁড়ো, ধানের তুষ, পাউডার মেশানোর জন্য ব্লেন্ডারসহ ককটেল তৈরির আলামত সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়াও এর আগে তিনটি ঘটনায় ৪০টি উদ্ধারকৃত অবিস্ফোরিত বোমা বিস্ফোরিত করা হয়। জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ বলেন, বিশেষজ্ঞ দল বিস্ফোরণে লন্ডভন্ড হওয়া ঘর এবং চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বোমা তৈরির শত শত সরঞ্জাম ও আলামত সংগ্রহ করেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ওই গ্রামের নবনির্মিত একটি বসতঘরে হাতবোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণ হয়। এতে প্রাণ হারান দুই জন। ঘটনাস্থলেই নিহত হন সোহান ব্যাপারী (৩২)। তার হাত কব্জিসহ উড়ে যায়। আর নবীন হোসেন (২৮) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গুরুতর আহত নয়ন মোল্লাসহ আরও দুই জনের চিকিৎসা চলছে। নিহত সোহান মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে ও নবীন হোসেন একই এলাকার রহিম সরদারের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে-মধ্যেই দুপক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও আহতরা বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক। যে ঘরটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটি কুদ্দুস ব্যাপারীর চাচাতো ভাই আবু সিদ্দিক ব্যাপারীর ছেলে সাগর ব্যাপারীর। ঘটনার পর থেকে সাগর পলাতক। জাজিরা থানার ওসি তদন্ত আব্দুস সালাম দেওয়ান জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাজিরা থানা পুলিশ তিন জনকে আটক করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট বিলাশপুর এলাকায় কাজ করছি। ওই ঘটনায় কারা জড়িত তা খোঁজার চেষ্টা করছি। আমরা সন্দেহভাজন তিন জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন জানান, বিগত সময় আদালতের নির্দেশে বোমা ডিসপোজাল টিমের সহায়তায় উদ্ধারকৃত ৪০টি বোমা ধ্বংস করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button