স্থানীয় সংবাদ

গাজীরহাটে বিএনপির এমপি প্রার্থীর ভাতিজাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা অবস্থা আশঙ্কাজনক

দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। আহত যুবকের নাম শরিফুল মোল্লা। সে শাহজসহান মোল্লার পুত্র। যিনি নড়াইল-১ আসনের বিএনপির কান্ডারি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের আপন খালাতো ভাইয়ের ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে শরিফুল মোল্লা দৈনন্দিন বাজার করার উদ্দেশ্যে গাজীরহাটে যাচ্ছিলেন। পথে মেলজারের মোড় এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামদা, চাপাতি, ছুরি ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী আরও জানায়, সন্ত্রাসীরা শরিফুলকে বেধড়ক পিটিয়ে তার দুটি পা গুঁড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে তার গলা কাটার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে ধাওয়া দেয়। জনগণের প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী কয়েকজনের মদদপুষ্ট একটি ক্যাডার বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভিকটিম বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীরহাট পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গাজীরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই জামিল জানান, “আমরা ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে এলাকায় আমাদের পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে। আমরা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেছি। ভয়ের কিছু নেই, পুলিশ আপনাদের পাশে আছে।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই বর্বরোচিত হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের নিকট জানমালের নিরাপত্তার জোর আবেদন জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button