স্থানীয় সংবাদ

সম্পদ ও আয়ে এগিয়ে লবি, মামলায় পরওয়ার

# ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬ #
# লবীর স্ত্রীর অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ ৯ কোটি ৬০ লাখ, পরওয়ারের সাড়ে ২২ লাখ

কামাল মোস্তফা : আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনার আলোচিত আসনগুলির মধ্যে খুলনা-৫( ডুমুরিয়া-ফুলতলা) অন্যতম। আসনটিতে মনোনয়ন বৈধ হওয়া চার প্রার্থীর মধ্যে ভোটের মাঠে মূল লড়াই হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি আলী আসগর লবীর মধ্যে। হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়ায় দু’জনের হলফনামার আদ্যপান্ত নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই মানুষের। কার কত সম্পদ তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। ২০০১ সালে গোলাম পরওয়ার এই আসনে চারদলীয় জোটের সংসদ সদস্য ছিলেন। লবী এ আসনে নতুন প্রার্থী হলেও আগে তিনি খুলনা-২ এ খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেয়া আসনে উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন। বিএনপি প্রার্থী আলি আসগর লবির হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খুলনার ছয়টি আসনে বিএনপি ছাড়াও অন্য সব দলের প্রার্থী থেকে বার্ষিক আয় ও সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। তাঁর অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা। বার্ষিক আয় ২ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১০ টাকা। হলফনামায় ৬টি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি’র এই প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, হলফনামায় পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তাঁর বিরুদ্ধে খুলনা ও ঢাকায় দায়ের করা ৬টি মামলায় খালাস, প্রত্যাহার ও কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তার বর্তমান মূল্যে ৫২ কোটি টাকার অস্থাবর রয়েছে। এরমধ্যে নগদ ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা, পোস্টাল, সেভিং সার্টিফিকেটঁসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪০ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৪ টাকার মোটরযান, ৩০ হাজার টাকার স্বর্ণ, ১২ লাখ টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র, ২ লাখ টাকার আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে অর্জনকালীন মূল্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার অকৃষি জমি ও ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টাকার বাড়ি/এপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার বর্তমান মূল্যে স্ত্রীর ৩ কোটি টাকার অস্থাবর এবং ৬ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৬১১ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার দায় রয়েছে এবং তার স্ত্রীর দায়ের পরিমাণ ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। হলফনামা পর্যালোচনা করে জানা যায়, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ৪৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা কোয়াসড এবং বাকি মামলাগুলো থেকে তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। তার কাছে নগদ রয়েছে ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৩ টাকা। তার টিভি, ফ্রিজ, ল্যাবটপ, রাইস কুকার, ফ্যান, গিজারের মূল্য ৮০ হাজার ৬৫০ টাকা এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরওয়ারের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০ টাকা। গোলাম পরওয়ারের ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৩ হাজার ৩৩০ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় নগদ আছে ২ হাজার ৬৭৫ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ৪ হাজার ৩৪৫ টাকা। ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৫ ভরি স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২০ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, ২ লাখ টাকা মূল্যের ভবন। এসবই অর্জনকালীন মূল্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এসব স্থাবর সম্পদের মূল্য তিনি দেখিয়েছেন প্রায় ১ কোটি টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে জামায়াতের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার ৫ হাজার ৬২৫ টাকা আয়কর প্রদান করেছেন বলে তার হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button