স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে সিএনজি, মাহেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রণহীন বেপরোয়া গতি

# ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা #

শেখ ফেরদৌস রহমান : খুলনা নগরীতে সিএনজি, মাহেন্দ্র, আতুলের নিয়ন্ত্রণহীন বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট, বড়, দুর্ঘটনা। যেন কোনভাবে লাগাম টানা যাচ্ছেনা। সড়ক ফাঁকা থাকলে বেড়ে যায় এদের গতি। আর পাশে থাকা অন্য যানবাহণের সাথে পাল্লা দিয়ে আগে যাওয়ার জন্য বেপরোয়া গতি। এমনিক আগে যেয়ে যাত্রী পাওয়ার নেশায় যত্রতত্র গাড়ী থামিয়ে যাত্রীদের উঠা-নামার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা পাশাপাশি বাড়ছে সড়কে যানজট। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় নগরীর খালিশপুর মুজগুন্নি সড়কের পাশে ওষুধ কোম্পানির দু’জন প্রতিনিধি মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় আহত হন। প্রতক্ষ্যদর্শী স্থানীয়রা জানান, দুইজন মোটর সাইকেল আরোহী খুবই স্বাভাবিক গতিতে যাচ্ছিলেন খুলনার দিকে। এসময়ে পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি সবুজ কালারের সিএনজি এসে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে করে বিকট একটি শব্দ হয় ও সড়কের মাঝে পড়ে দুইজন। আমরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে মাথায় পানি দিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই। এ বিষয়ে কথা হয় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত ব্যক্তি হেলথ কেয়ার ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মোঃ জুবায়ের এর সাথে তিনি বলেন, আমাদের ১০০ সিসি একটি হিরো হুন্ডা গাড়ী নিয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ পিছন থেকে একটি সিএনজি এসে ধাক্কা দেয় এসময়ে আমার সহ কর্মি রাজিব গুরুতর আহত হয়। আমিও শরিরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতও চোট পেয়েছি। এ বিষয়ে কথা হয় নিরাপদ সড়ক চাই এ (নিশ্চা) এর খুলনা জেলার সহঃ সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হোসেনের সাথে তিনি বলেন, এসব তিন-চাকার যানবাহণের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমরা বেশ কয়েকবার সচেতনতামূলক লিফলেট ও নগরীতে চলাচলের সময়ে সর্বেচ্চ ৩০ কিঃমি এর বেশি গতি উঠানো যাবেনা মর্মে সতর্ক করেছি। এভাবে আমরা বিভিন্ন চালক ও তাদের ইউনিয়নকে অবগত করেছিলাম। তবে বিগত দিনে রাজনৈতিক প্রভাব এর কারণে এসবের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এছাড়া এরা সব সময়ে সড়কের ডান পাশে দ্রুত গতিতে চলাচল করে। আর যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা করায়। এখন সচেতনতা আর কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। এ বিষয়ে কথা হয় সিএনজি চালক মোঃ গাফফার আলীর সাথে তিনি বলেন, আপনার প্রশ্নে আমি বলব অনেকে আছেন আমাদের মধ্যে চালক যারা নতুন গাড়ী নিয়ে সড়কে নামছে। কোনরকম মহাজনকে বুঝিয়ে তারাও চালক হয়েছে। অভিজ্ঞতা নেই যেকারণে তারা দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। নিজের গাড়ী থাকলে তার একটি যতœ থাকে । যারা মহাজনদের গাড়ী নিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় এমনকি আগে যেয়ে যাত্রী নিতে হবে মাথায় এমন চিন্তা যেসব চালকের তারাই বেশি দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি সব সময়ে ধীরে ধীরে গাড়ী চালানোর চেষ্টা করি। এ বিষয়ে কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের এডিসি, মোঃ ছয়রুদ্দীন আহম্মেদ বলেন, নগরীতে কিছু অদক্ষ চালক যারা ট্রাফিক আইন মানছেনা এমনকি সড়কের সার্জেন্ট, ট্রাফিক পুলিশের কথা শুনেনা। এরা খুব ক্ষমতা দেখায়। আমরা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। আমরা আরও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত আছি। বেপরোয়া গতি রোধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। চালকেরা যেন সচেতন হয় এজন্য আমাদের কার্যক্রম চলছে। ইতো মধ্যে আমরা ইজি বাইক চালকদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button