খারকিভে রুশ ড্রোন হামলায় নিহত ৪, আহত ৬

প্রবাহ ডেস্ক : ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার খারকিভ আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, ‘শহরটি সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া শহরটিতে ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।’ খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখোভ জানান, ‘একটি দূরপাল্লার রুশ ড্রোন শিশুদের জন্য নির্ধারিত একটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানে, এতে সেখানে আগুন লেগে যায়।’ স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ‘বিপজ্জনক ও ব্যাখ্যাতীত উত্তেজনা’ বাড়ানোর অভিযোগ তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাও এখনো অনিশ্চিত। এদিকে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইউক্রেনেগো’ জানিয়েছে, রাশিয়ার রাতভর হামলায় শহরটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানী কিয়েভে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট কতদিন চলবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, ‘স্বল্প সময়ে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র হামলার মুখে পড়েছে ইউক্রেনের রাজধানী।’ ইউক্রেন পর্যবেক্ষণকারী টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর তথ্যমতে, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) এক জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘রাশিয়ার “ব্যাখ্যাতীত এই উত্তেজনা” যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘শান্তির অপার সম্ভাবনার এই মুহূর্তে উভয় পক্ষেরই উত্তেজনা কমানোর পথ খোঁজা উচিত।’যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষম ‘ওরেশনিক’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে। গত সপ্তাহে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার দাবি করেছে, ‘গত সপ্তাহে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের লভিভে অবস্থিত একটি বিমান মেরামত কারখানায় হামলা চালানো হয়, যা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে গেছে।’ রাশিয়ার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার চেষ্টার জবাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে ইউক্রেন এ দাবি অস্বীকার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র একে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়া শত শত ড্রোন ও ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর ইউক্রেনের আহ্বানে ইউএনএসসি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই হামলায় দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ হামলার কয়েক দিন আগেই ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা যুদ্ধবিরতি হলে দেশটির নিরাপত্তা জোরদারে একটি চুক্তিতে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এর মধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবও ছিল। তবে রাশিয়া এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে জানায়, পশ্চিমা দেশগুলোর পাঠানো যেকোনো বাহিনী ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।



