জাতীয় সংবাদ

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশুর অবস্থা আশংকাজনক

প্রবাহ রিপোর্ট : মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে ৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিশু কন্যা হুজাইফা আফনান। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির মাথায় গুলি লেগেছে এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত শিশুটির মাথা থেকে গুলি বের করা যায়নি। চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, শিশুটির মাথায় থাকা গুলিটি এখনও বের করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসা চলছে। চমেক হাসপাতাল অ্যানেস্থেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. হারুন উর রশিদ বলেন, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর এবং সে বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। এখনও তার মাথা থেকে গুলি বের করা যায়নি। গুলিবিদ্ধ শিশুটির চাচা শওকত আলী গতকাল মঙ্গলবার সকালে জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। রাত যত গভীর হয়েছে, গোলাগুলির শব্দ তত বেড়েছে। আতঙ্কে তারা সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। গুলি লাগার ভয়ে ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকতেও সাহস পাননি; হামাগুঁড়ি দিয়ে বসে রাত কাটিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রোববার সকাল ৭টার দিকে গোলাগুলির শব্দ বন্ধ হলে তারা ঘর থেকে বের হতে শুরু করেন। ওই সময় হুজাইফা আফনান খেলতে বের হয়ে বাড়ির সামনের সড়কে যায়। এ সময় মিয়ানমারের ভেতরে আবারও গোলাগুলির শব্দ শুরু হলে একপর্যায়ে হুজাইফা চিৎকার দিয়ে ওঠে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, তার মাথা বেয়ে রক্ত ঝরছে। তখনই বুঝতে পেরেছি, তার মাথায় গুলি লেগেছে। আহত অবস্থায় প্রথমে হুজাইফা আফনানকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটির মাথায় লাগা গুলি অপসারণের চেষ্টা চলছে। শিশুটির আরেক চাচা এরশাদ জানান, তারা সাত ভাই। গুলিবিদ্ধ হুজাইফা আফনান বড় ভাই জসীম উদ্দিনের বড় মেয়ে। জসীম মাছ ব্যবসায়ী। হুজাইফার দুই ভাইয়ের মধ্যে আদিলের বয়স ছয় বছর এবং আবদুল্লাহ আল মামুনের বয়স তিন বছর। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। এরপর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে ভর্তি দেন। বর্তমানে শিশুটি নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুলিবিদ্ধ শিশুটির এলাকা থেকে চমেক হাসপাতালে আসা কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, সীমান্তের অপর পাশে মিয়ানমারে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গুলি এসে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ও গাছে লাগছে। এর আগেও কয়েকজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এমনকি গত সোমবার একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাকে চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটির খালাতো ভাই আবদুল গফুর বলেন, সীমান্তের ওপারের গোলাগুলির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সরকার যেন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেন- এটাই তাদের প্রত্যাশা। উল্লেখ্য, রোববার সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছা ব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হুজাইফা আফনান। ৯ বছর বয়সী শিশুটি লম্বাবিল গ্রামের জসীম উদ্দিনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button