রংপুরে স্পিরিট পানে তিন দিনে ৬ জনের মৃত্যু

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রংপুরে ‘রেকটিফায়েড স্পিরিট’ পানে অসুস্থ আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে তিন দিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। এ ছাড়া আরও দুজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান। নিহতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। এর আগে রোববার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক মাদক কারবারির বাড়িতে কয়েক ব্যক্তি রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করেন। এতে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হন। ওই দিন তিনজন মারা যান। তারা হলেন- উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের প্রয়াত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং রংপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জাননাত আলি। এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ওই এলাকার জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়; যাকে মাদক কারবারি বলছে পুলিশ। স্থানীয়রা জানান, জয়নুল আবেদীন চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করেন। পরে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে তারা মারা যান। এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় নগরের হাজিরহাট থানার বালারবাজারে স্পিরিট খেয়ে আরও একজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত মানিক চন্দ্র রায় (৬০) সদর কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার প্রয়াত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে। হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মানিক। এসব ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার এবং সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, স্থানীয় এক শ্রেণির হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে ওষুধগুলো সংগ্রহ করে থাকেন মাদক ব্যবসায়ীরা। নগরের একটি হোমিও চেম্বারে অভিযানও চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



