জাতীয় সংবাদ

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন ১৯ জানুয়ারি

প্রবাহ রিপোর্ট : চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে ১৯ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. জাহিদুল হক এ আদেশ দেন। আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, নি¤œ আদালত থেকে বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে আসার পর গতকাল বুধবার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রথম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন হাজতে থাকা ২৩ আসামির মধ্যে ২২ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়নি। আগামী ১৯ জানুয়ারি আসামিদের উপস্থিতে চার্জ গঠন করা হবে। এখনও ১৬ জন আসামি পলাতক। চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়, আদালত জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ায় বাধা দেন। পরে বিক্ষোভকারীরা আদালত চত্বরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় অবস্থিত একটি চেম্বার ভাঙচুর করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী চন্দন, রুমিত দাস, সুমিত দাস, গগন দাস, নয়ন দাস, বিশাল দাস, আমান দাস, সুকান্ত, গণেশসহ তাদের সহযোগীরা আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button