সম্পাদকীয়

জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কাম্য নয়

সড়ক অবরোধ

রাস্তা অবরোধ এখন আমাদের নগর জীবনের এক ভয়াবহ বাস্তবতা। কোনো দাবি আদায়ের আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যখন সড়ক অবরোধ করা হয়, তখন পুরো শহরের স্বাভাবিক চলাচল ভেঙে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, স্কুলের ছাত্রছাত্রী, জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স- সবাই আটকে যায় দীর্ঘ যানজটে। এতে শুধু সময় নষ্ট হয় না, মানুষের মানসিক চাপও বহুগুণে বেড়ে যায়। ঢাকার মতো জনবহুল শহরে প্রতিদিনই যানজট একটি বড় সমস্যা। কিন্তু রাস্তা অবরোধের কারণে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কয়েক মিনিটের অবরোধও কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থবিরতা তৈরি করে। হাজারো গাড়ি একসঙ্গে আটকে যায়, জ্বালানি অপচয় হয়, পরিবেশ দূষণ বাড়ে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় জরুরি সেবায়। অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে না, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আটকে যায়, পুলিশ কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না। এর ফলে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। অবরোধকারীদের দাবি হয়তো যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু পদ্ধতি হিসেবে রাস্তা অবরোধ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে মত প্রকাশের অধিকার আছে, কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অন্যের মৌলিক অধিকার ক্ষুণœ করা যায় না। নাগরিকদের চলাচলের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সময়ের মূল্য অক্ষুণœ রাখা জরুরি। তাই দাবি আদায়ের পথ হওয়া উচিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, আলোচনার টেবিল কিংবা আইনগত প্রক্রিয়া। সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। বিকল্প রুট তৈরি, দ্রুত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সংলাপ- এসব উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে তারা অবরোধের মতো ক্ষতিকর পদ্ধতি ব্যবহার না করে। আমরা চাই এমন একটি শহর, যেখানে কোনো আন্দোলন বা দাবি আদায়ের কর্মসূচি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করবে না। যেখানে নাগরিকরা নিশ্চিন্তে কাজে যেতে পারবে, শিশুরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাবে, রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা পাবে। রাস্তা অবরোধের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এখনই। কারণ যানজটের ভোগান্তি শুধু সময় নষ্ট করে না, এটি আমাদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমারদের প্রত্যাশা, দাবি আদায়ের পথ হবে শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক। রাস্তা অবরোধ নয়, আলোচনার টেবিলই হোক সমাধানের জায়গা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button