তালা সদরে জাল দলিলে একাধিক ব্যক্তির জমি জোর দখলের অভিযোগ : সর্বশান্ত একাধিক পরিবার

# সব হারিয়ে রাস্তার ধারে বসবাস করছে আমেনা বেগম #
তালা প্রতিনিধি ঃ হুমকি প্রদান, প্রতারনা, জাল দলিল সৃষ্টিসহ ভাড়াটিয়া সমন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে তালা সদরের একাধিক দরিদ্র ও নিরিহ মানুষের জমি জোর দখলের অভিযোগ উঠেছে। তালা সদরের মৃত. অমেদ আলী শেখের ছেলে আব্দুল জব্বার শেখ বছরের পর বছর ধরে এভাবে একাধিক ব্যক্তিকে সর্বশান্ত করে পথে বসিয়েছে। তার এই জোর দখলে বাঁধা দিলেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী, মারপিটসহ নানাভাবে হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এঘটনার প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী একাধিক ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী তালা সদরের মৃত. মেছের শেখ’র ছেলে আব্দুর রহিম শেখ, গোসল বিশ^াসের মেয়ে ফাতেমা বেগম, খাদিজা বেগম, একই এলাকার আমিনুর রহমান, আনসার খাঁ, আফাজ খাঁসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, তালা সদরের মৃত. অমেদ আলীর ছেলে আব্দুল জব্বার একজন বহুমূখি প্রতারক ও ভূমিদস্যু। সে জাল দলিল সৃষ্টি করে অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের সহ এলাকার বহু মানুষের জমি জোর দখল করেছে। এছাড়া ১৯৭১ সালের দিকে এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়িসহ জমি কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে জোর দখল করে। এছাড়া প্রতিবেশি হতদরিদ্র গোসল বিশ^াসের ভিটে বাড়িসহ ৩২ শতক জমি জাল দলিল করে জোর দখল নেয়। যেকারনে সব হারিয়ে মৃত. গোসল বিশ^াসের হতদরিদ্র স্ত্রী আমেনা বেগম সরকারি রাস্তার ধারে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অমানবিক জীবন-যাপন করছে। হামলা, মামলা, হুমকির কারনে মৃত. গোসল বিশ^াসের দু’ মেয়ে-ও অনুরুপ অমানবিক জীবন যাপন করে। হতদরিদ্র আব্দুর রহিম শেখ’র ক্রয় করা মাত্র ৪শতক জমি জাল দলিল সৃষ্টি করে আব্দুল জব্বার জোর দখলের চেষ্টা করছে। এঘটনায় বাঁধা দিলে আব্দুর রহিমকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানোসহ নির্মম নির্যাতন করা হয়। এবিষয়ে প্রতিকার পেতে আব্দুর রহিম সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতে মামলা করলে অনুকূলে রায় পান। কিন্তু প্রভাবশালী আব্দুল জব্বার উচ্চ আদালতে মামলা করে সেই রায়’র স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে। দরিদ্র আব্দুর চা’ দোকান ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমের উচ্চ আদালতে যেয়ে হয়রানীকর সেই মামলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ না থাকায় জমি হারানোর আতংকে রয়েছে। জমি কেনার পর থেকে প্রায় ১৫/২০ বছর ধরে আব্দুর রহিম একের পর এক হয়রানী হয়ে আসছে। এছাড়াও এলাকার মৃত আব্দুল মজিদ শেখ, আনসার আলী খাঁ, আফাজ খাঁদের জমি একই ভাবে জাল দলিলের মাধ্যমে জোর দখল করে নিয়ে তাদের সর্বশান্ত করেছে ভূমিদস্যু আব্দুল জব্বার।
ভুক্তভোগীরা জানান, এভাবে অন্যের জমি জোর দখল নিয়ে জব্বার শেখ ধর্নাঢ্য হয়েছে আর গরীব নিরিহ মানুষগুলো পথে বসেছে। জব্বার শেখের হুমকির মুখে জমি ছেড়ে অনেক হিন্দু পরিবার দেশ স্বাধিনের সময়ে ভারতে পালিয়েছে। বর্তমানে জব্বারের এক ছেলে আকাশ শেখ অন-লাইন জুয়ার মাষ্টার এজেন্ট এবং অপর ছেলে আব্দুল আলীম সুদের ব্যবসা করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছে। পিতা ও ছেলেদের অবৈধ এসব টাকার প্রভাবে এলাকার নিরিহ মানুষদের উপর বছরের পর বছর অত্যাচার-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। জমি দখলের চেষ্টা সহ জমি থেকে গাছ কাটা, জাল ডীড’র মাধ্যমে অন্যের ঘের দখল, ঘেরের মাছ চুরি, ঘেরে বিষ প্রয়োগ, মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া, বসত-ঘর ভাংচুরসহ নানান অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। দরিদ্র মানুষদের জমি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জোর দখলের জন্য আব্দুল জব্বার ও তার ছেলেদের অব্যাহত হামলা, মামলা, হুমকির কারনে আতংকে থাকে নিরিহ ১৫/১৬টি পরিবার। এসব ঘটনার প্রতিকার পেতে নিরিহ ও দরিদ্র পরিবারগুলো সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, পুরিশ সুপার, র্যাব, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তালা থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।


