গ্যাসে অস্থিরতা কাটবে কি?

দেশে জ্বালানি ব্যবস্থায় সংকট কাটানোর কোনো লক্ষণ নেই। পাইপলাইনের গ্যাসে চাপ খুবই কম। রাজধানীতে বিতরণ লাইনের ভাল্ব বিস্ফোরণ ও নদীতলে পাইপলাইনের ক্ষতির কারণে গ্যাস সরবরাহ ভয়াবহভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে সিলিন্ডার গ্যাসেও ব্যাপক অস্থিরতা। সারাদেশে এলপিজির সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ভোগান্তি ছড়িয়েছে ঘরে ঘরে। তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীতে গণভবনের উল্টো দিকে থানা রোডের মুখে চার ইঞ্চি বিতরণ লাইনের ব্যাসের একটি ভাল্ব হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে বড় ধরনের লিকেজ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আশপাশের একাধিক সেকশনের ভাল্ব বন্ধ করে গ্যাসের চাপ সীমিত করা হয়। এর ফলে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়। এছাড়া রোববার (১১ জানুয়ারি) তুরাগ নদের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হলেও কাজের সময় পাইপের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। এতে অনেক এলাকায় লাইনে প্রথমে পানি বের হচ্ছে, পরে অল্প গ্যাস আসছে। এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন পশ্চিম ও উত্তর ঢাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি এলপিজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে নৈরাজ্য। দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কয়েক দিন ধরেই এ চিত্র দেখা যাচ্ছে, এলপিজি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ দাম এবং বাজারে সহজলভ্যতা না থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ হতাশা ব্যক্ত করছে। তাদের হোটেল কিংবা বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। তবে খাবার কিনে খাওয়াতেই তো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কেননা প্রতিদিনের জীবনযাপনে বাসাবাড়িতে বহু কাজে গ্যাস দরকার। অবশ্য সরকার বারবার চেষ্টা করছে। কিন্তু এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এখন বাসাবাড়ি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নেই। এলপিজির সংকট প্রভাবিত করছে পরিবহন খাতেও। গ্যাসসংকটে ভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে ঢাকাবাসীর সাংসারিক খরচও। গত কয়েকদিনের তীব্র গ্যাসসংকটে আবাসিকে রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছেন না তিতাস গ্যাসের গ্রাহকরা। বিকল্প হিসেবে মানুষ এখন রাইস কুকার, বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন। স্বল্প আয়ের মানুষ মাটির চুলাও কিনছেন। আবাসিকের গ্রাহকরা গ্যাসের জন্য মাসিক বিল দেওয়ার পর বিকল্প এ ব্যবস্থায় যেতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছেন। আর বিকল্প ব্যবস্থায় যেতে গিয়ে যন্ত্রপাতি ও চুলা ক্রয়ের খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল ও লাকড়ির খরচ জোগাতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকটে বিভিন্ন এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে খাবারের দাম বেড়েছে। অটোগ্যাসের সংকট ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সংকটে চালকরা তাদের চাহিদার অর্ধেকও গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে অটোগ্যাসের ব্যবহারকারী অনেকেই ব্যয়বহুল জ্বালানি অকটেন-পেট্রোলে চলে যাচ্ছেন। ফলে জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইপলাইন বন্ধ হওয়ার পর রান্নার কাজে বিকল্প হয়ে ওঠা এলপিজি গ্যাস প্রাপ্তিতে দেশে যে অস্থিরতা চলছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি না হওয়া, চড়া দামে গ্রাহকের গ্যাস কেনা কিংবা সরকারের কঠোর নির্দেশনার পর বাজার থেকে এলপিজি গ্যাস উধাও হয়ে যাওয়া বাজার ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতারই পরিচয় বহন করে। এলপিজি গ্যাসের আমদানি, সরবরাহের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি করার বিষয়টি দেখভাল করা জরুরি।
