স্থানীয় সংবাদ

ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া লাশটির পরিচয় মিললেও ঘাতকরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
খুলনার ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনি রাজীব সরদার। হত্যা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। রাজিব নিষিদ্ধঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) খুলনা মহানগরীর ৬ নম্বর ঘাট এলাকার ভৈরব নদে দুটি লাইটার ভেসেলের মাঝখান থেকে রাজিবের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা নৌ থানা পুলিশ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া কলোনী এলাকার একটা প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্র এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। উক্ত চক্র মিথ্যা প্রলোভনে মোবাইলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নদী পারের কথা বলে ট্রলারে করে নদীর মাঝে নিয়ে আঘাতের পর আঘাত করে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এমনটাই এলাকায় চাপা গুঞ্জন মানুষের মুখে মুখে। ঘটনা আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা গোপনে তদন্ত কাজ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে রাজিব গোপালগঞ্জ থেকে খুলনায় আসেন। তিনি একাধিক বিয়ে করেছিলেন এবং তার একাধিক স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে বলেও জানা গেছে।
নিহত রাজিবের দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন জানান, এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরে রাজিবের মামা বাড়িতে বসবাস করেন। পরে গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের লাভলুর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতে শুরু করেন। রাজিবের অতীত সম্পর্কে তিনি আগে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেন। রাজীব সরদার ২০২২ সালে দিঘলিয়া উপজেলার দেয়াড়া কলোনী এলাকার রিনা বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকা অবস্থায় একনালা বন্দুক, গুলি, ছোরা, পিস্তল অন্যান্য সামগ্রী ও এক সহযোগীসহ দিঘলিয়া থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়। উক্ত অস্ত্র মামলায় জেল থেকে বের হওয়ার পর সে ফারহানা ইয়াসমিনকে বিবাহ করে।
ঘটনার বর্ণনায় ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, গত ৩ জানুয়ারি রাতে রাজিব ফোনে জানান তিনি বিকাশ থেকে টাকা তুলতে যাচ্ছেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজতে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আটটি থানা ও নৌ-পুলিশে যোগাযোগ করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষে বাড়িতে ফিরে যান।তিনি আরও বলেন, পরে জানতে পারেন তার স্বামী পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা ছিল। এর মধ্যে সাতটি মামলার নিষ্পত্তি হলেও বাকি সাতটি মামলা চলমান। বর্তমানে রাজিব দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, অতীতের সহকর্মীরাই তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করে খালিশপুর থানায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন। তবে খালিশপুর থানায় মামলা হয়নি এমনটাই জানিয়েছেন খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ।
রাজিবের প্রথম স্ত্রী লিয়া খাতুন জানান, ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। সে সময় একবার সন্ত্রাসী হামলায় রাজিব গুরুতর আহত হন এবং তার ডান হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়। প্রায় চার বছর আগে তাদের বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শনিবার সকালে তিনি খুলনায় আসেন।
খুলনা নৌ-পুলিশ সদর থানার ওসি বাবুল আক্তার সাংবাদিকদের জানান, শনিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ময়না তদন্তে রাজিবের মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ওই আঘাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রাজিবের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ পর নদী থেকে তার ফুলে-ফেঁপে ওঠা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
নৌ-পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার জানান, রাজিব পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শীর্ষ পর্যায়ের ক্যাডার ছিলেন এবং অপরাধের পর গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরে তার মামা বাড়িতে আশ্রয় নিতেন। তবে রাজীব সরদার হত্যা মামলায় কোনো থানায় মামলা দায়ের হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার ব্যাপারে খুলনা নৌ থানা অফিসার ইনচার্জ বাবুল আক্তারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button