তীব্র শীতে সতর্ক থাকতে হবে

দেশে শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দেহে বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলতে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। অনেকেই কিন্তু সহজে নিজেকে এ পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারেন না। তাই এ সময় বেশ কিছু বাড়তি রোগব্যাধি দেখা দেয়, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ সময়টা বেশ জটিলতা তৈরি করে। শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা ও সিওপিডি-জাতীয় রোগ এ সময় বেড়ে যায়। এছাড়া শীতে বাড়ে অন্য শ্বাসতন্ত্রের রোগ। যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস, তবে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব অ্যানজাইম আছে, তা স্বাভাবিকের চেয়ে কম তাপমাত্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। শীতে বাতাসের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা কমে যায়, যা আমাদের শ্বাসনালির স্বাভাবিক কর্ম প্রক্রিয়াকে বিঘিœত করে, ভাইরাসের আক্রমণকে সহজ করে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের জানুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি এবং এক থেকে দুটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ৬ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকার এলাকাগুলোয় শীতের তীব্রতা বেশি হতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নি¤œচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা নেই। জানুয়ারিতে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকার কথা থাকলেও, শৈত্যপ্রবাহের দিনগুলোয় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে। কনকনে শীতে বিশেষ একটি শ্রেণিগোষ্ঠীর মানুষ ছাড়া প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই যেতে হচ্ছে নানা ভোগান্তির মধ্য দিয়ে। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ। যাদের বেশির ভাগকেই খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়। আর এর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর শিশু ও বয়স্করা। স্বভাবতই শীতজনিত রোগের ক্ষেত্রে শিশুদের ঝুঁকি বেশি। এখন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুরাই এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জিজনিত জটিলতা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা মনে করি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস যথাযথ গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা এবং সুস্থ থাকার জন্য সে অনুযায়ী আমাদের সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকা জরুরি।
