জাতীয় সংবাদ

‘হ্যাঁ’ ভোটে সরকারের সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

প্রবাহ রিপোর্ট : জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের ওপর আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থি নয়। গতকাল রোববার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বার্তায় এ দাবি করা হয়। বার্তায় জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অবস্থান নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয় বরং এটি সরকারের দায়িত্ব ও ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার দায়িত্ব নেয়। এর প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ^াসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা। প্রেস উইং জানায়, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গত প্রায় আঠারো মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। সে কারণে এই সংস্কারের পক্ষে তার অবস্থান নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা যায় না। বার্তায় আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ অস্বাভাবিক নয়। গণভোটের ক্ষেত্রে নেতারা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেবেন- এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। প্রেস উইং জানায়, গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত দিতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ^াসযোগ্য কি না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। সংস্কার গণভোটকে দেশের দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবে উল্লেখ করে প্রেস উইং জানায়, এই মুহূর্তে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবকেই নির্দেশ করে। যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক নজির টেনে বার্তায় বলা হয়, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক ও কিরগিজস্তানের মতো দেশগুলোতে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। প্রেস উইং আরও জানায়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর। জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন প্রসঙ্গে বলা হয়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং ভোটাররা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বার্তায় বলা হয়, সংস্কার বিষয়ে দ্বিধা বা নীরবতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের হাতেই থাকবে- এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button