মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

গণতন্ত্র-অর্থনীতির যুগল সংকট
বাংলাদেশ ২০২৬ সালের শুরুতে এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। একদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ, অন্যদিকে অর্থনীতির নাজুক অবস্থা- দুটিই জনগণের আস্থা ও ভবিষ্যৎকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা থাকাটা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক নিয়ম, কিন্তু যখন সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সময়ে অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ জনগণের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট বিতরণ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে ব্যালটের অপব্যবহার হচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলছে, অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সিস্টেম চালু আছে। কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে শুধু ব্যাখ্যা নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে অর্থনীতির চিত্রও উদ্বেগজনক। নীতি বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এসেছে আমদানি ও বিনিয়োগ সংকোচনের মাধ্যমে, প্রকৃত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়নি। খাদ্য সরবরাহে সংকট, ব্যাংক খাতে অনিয়ম, জ্বালানি রূপান্তরের চাপ এবং বৈদেশিক খাতের দুর্বলতা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সংকট আরও গভীর হলে জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকি বাড়বে। গণতন্ত্র ও অর্থনীতি- দুটিই জনগণের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন ছাড়া রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না, আর অর্থনৈতিক সংস্কার ছাড়া জনগণের জীবনযাত্রা সহজ হবে না। তাই এখনই প্রয়োজন দ্বিমুখী পদক্ষেপ। প্রথমত, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা নিতে হবে, যাতে ভোটাররা আস্থা ফিরে পান। দ্বিতীয়ত, সরকারকে অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করতে হবে- ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি আজ একই সঙ্গে পরীক্ষার মুখে। এই পরীক্ষায় ব্যর্থতা মানে জনগণের আস্থা হারানো, আর সফলতা মানে একটি স্থিতিশীল ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র। তাই রাজনৈতিক দল, সরকার ও নির্বাচন কমিশন- সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।
