সহিংসতা নয়, ভোট হোক উৎসবমুখর

প্রচার-প্রচারণা শুরু
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো জনগণের ভোটাধিকার, আর সেই ভোটাধিকার প্রয়োগের দিনটি হওয়া উচিত উৎসবমুখর। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, নির্বাচনী প্রচারণা প্রায়ই উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতায় কলঙ্কিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু ভোটারদের অংশগ্রহণ কমায় না, বরং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা দুর্বল করে। নির্বাচন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, কিন্তু তা কখনো প্রতিহিংসায় রূপ নেওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, জনগণ তাদের কাছ থেকে উন্নয়ন, নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুনতে চায়। ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার বা সহিংসতা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে না। বরং শান্তিপূর্ণ প্রচারণা, নীতিনির্ভর বিতর্ক এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সব দল সমান সুযোগ পায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারেন। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকেও সচেতন থাকতে হবে, যাতে সহিংসতা নয়, নীতি ও কর্মসূচি আলোচনায় আসে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বীতায়, সহিংসতায় নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা জনগণকে বিকল্প দেয়, সহিংসতা জনগণকে ভয় দেখায়। তাই রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন ও নাগরিক সমাজ—সব পক্ষকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে জনগণের উৎসবে পরিণত করতে হলে সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বীতা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নির্বাচনকে উৎসবমুখর রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও একে অপরের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা বজায় রাখে। ভারতে নির্বাচনের সময় বিশাল জনসমাগম হলেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা সহিংসতা কমাতে সাহায্য করে। ইউরোপের অনেক দেশে নির্বাচনী প্রচারণা মূলত নীতি ও কর্মসূচি কেন্দ্রিক হয়, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়। বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বীতা নয়; এটি জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের ভিত্তি। জনগণ চায় নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে, তাদের মতামত প্রকাশ করতে। সহিংসতা সেই অধিকারকে ক্ষুণœ করে। তাই এখনই সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করার, নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার এবং নাগরিক সমাজকে সক্রিয় হওয়ার। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে হবে। সহিংসতা নয়, নীতি ও কর্মসূচি হবে প্রতিদ্বন্দ্বীতার মূল ভিত্তি। কেবল তখনই জনগণ আস্থা ফিরে পাবে, আর নির্বাচন হবে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের উৎসব।
