বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর কয়েক ঘণ্টায় বন্ধ

প্রবাহ ডেস্ক : জাপানের কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি চুল্লি পুনরায় চালুর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় আবারও বন্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালক প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর এটিই ছিল টেপকোর পরিচালিত কোনো চুল্লি পুনরায় সচল করার প্রথম প্রচেষ্টা। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত এই কেন্দ্রের ৬ নম্বর চুল্লিটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বন্ধ ছিল। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ২ মিনিটে পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে টেপকোর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি জানান, চুল্লিটি চালু করার প্রক্রিয়ার সময় হঠাৎ মনিটরিং সিস্টেমে একটি সতর্ক সংকেত (অ্যালার্ম) বেজে ওঠে। নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী পরিচালনা কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়। বর্তমানে চুল্লিটি ‘স্থিতিশীল’ অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্র থেকে কোনো তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর খবর পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চুল্লির ‘কন্ট্রোল রড’ বা নিয়ন্ত্রণ দ- ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই অ্যালার্ম বেজে উঠেছিল। এর আগে গত মঙ্গলবারই চুল্লিটি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু তখনও একই ধরনের সতর্ক সংকেত পাওয়ার কারণে সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়। বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টেপকোর সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নিগাতার প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা এই কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিপক্ষে। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। যার মোট সাতটি চুল্লির উৎপাদন ক্ষমতা ৮ দশমিক ২ গিগাওয়াট। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর জাপানের সব পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে জাপান সরকার ধীরে ধীরে পারমাণবিক শক্তিতে ফেরার চেষ্টা করছে। টেপকো আশা করছিল, এই চুল্লিটি থেকে ফেব্রুয়ারি নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যাবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।



