জাতীয় সংবাদ

ভাই পুতুল কিনে দেওয়ার জেরে ভাবির হাতে ৫ বছরের শিশু খুন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পাঁচ বছর বয়সী ছোট বোনের জন্য ভাই এনেছিলেন পুতুল ও ফুলের স্টিকার। সেই পুতুলই ছোট শিশুটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। বোনের জন্য পুতুল নিয়ে আসায় ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করেন ভাবি। সেই ঝগড়ার জেরে পরদিন ফাঁকা বাসায় ছোট শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে ওই পাষ- ভাবি। গত ২১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার ভাটারা থানার কুড়িল মৃধাবাড়ীতে বড় ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা আক্তারের হাতে প্রাণ হারায় পাঁচ বছরের শিশু আরিফা। আর গত বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তকির আদালতে খুনের কথা স্বীকার জবানবন্দি দেয় এই ভাবি। এদিন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই মওদুদ কামাল আসামিকে আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। পরে আদালত তা রেকর্ড করেন। তবে, আসামি খাদিজা আক্তার (১৬) প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠায়নি আদালত। ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত খুনের দোষ স্বীকার করা খাদিজাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরে দুই বছর পর তাকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে। মামলার বাদী ভুক্তভোগী আরিফার বাবা রাজীব বেপারী বলেন, আমি ন্যায় বিচার চাই। আমার ছেলে তার ছোটবোনকে কিছু কিনে দিলেই ও (আসামি খাদিজা) সবসময় হিংসা করতো। একপর্যায়ে মেরেই ফেললো। এখন আর কি বলবো, সব কিছু থানায় বলছি। এসআই মওদুদ কামাল বলেন, আসামি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে গাজীপুরের কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। হত্যার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার সকালে নিহত আরিফার বাবা রাজিব বেপারী (৩৮) ভাটারা থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামি খাদিজার সঙ্গে তার বড় ছেলে হাসান বেপারীর দেড় বছর আগে বিয়ে হয়। তিনি এবং হাসান বসুন্ধরা গ্রুপে দিন মজুরের কাজ করে। তারা একসঙ্গে একই বাসায় থাকতো। বিয়ের পর থেকে সাংসারিক বিভিন্ন বিষয়ে খাদিজা ঝামেলা শুরু করে। আরিফাকে ভাই হাসান কিছু কিনে দিলে সেটা নিয়েও ঝামেলা করতো। এমনকি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সবমসময় তর্ক-বিতর্ক করতে থাকে। গত ২০ জানুয়ারি হাসান আরিফার জন্য একটি প্লাস্টিকের পুতুল ও ফুলের স্টিকার কিনে নিয়ে আসে। তখন আরিফা ঘুমিয়ে ছিল। এজন্য বোনের জন্য নিয়ে আসা পুতুল ও স্টিকার ঘরের শোকেসে রেখে দেয় হাসান। পরে ঘুমানোর জন্য স্ত্রীর কাছে চলে যায়। আরিফার জন্য পুতুল ও স্টিকার কেনা নিয়ে হাসানের সঙ্গে ঝগড়া করে খাদিজা। একপর্যায়ে গালিগালাজও করে। পরদিন সকাল ৭টার দিকে আরিফা ঘুম থেকে উঠে। এর আগেই বাব ও ছেলে কাজের উদ্দেশে বাইরে যায়। এরপর আরিফার মা তাদের ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় বাড়ির মালিকের বাসায় চলে যায়। কিছু সময় বাদে বাসায় এসে মেয়েকে ডাকতে থাকেন তিনি। মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আরিফার বাবার কাজ না করে বাসায় চলে আসেন। বাসায় এসে জানতে পারেন, আরিফাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তখন তিনিসহ পরিবারের সবাই খুঁজতে থাকেন। পরদিন সকালে বাসার নিচ তলার পানির ট্যাংকির মধ্যে আরিফার লাশ দেখতে পায় তার বাবা। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে খাদিজার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দির আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন আরিফাকে তার পরিবারের সবাই কোথাও খুঁজে না পেয়ে বাসায় ফিরে আসে। পরে পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয় যে আরিফা বাসা থেকে বের হয়নি। তখন বাসায় ভালভাবে খুঁজতে গিয়ে বাসার নিচতলার পানির ট্যাংকির মধ্যে তার লাশ ভাসতে থাকতে দেখে। আসামি খাদিজা সবার অগোচরে গলা টিপে হত্যা করে বাসার নিচতলার পানির ট্যাংকের ভেতরে ফেলে রাখে। তার কথা বার্তায় সন্দেহ হলে পরিবারের লোক তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পাশাপাশি খাদিজাকে আটক করা হয়। আবেদনে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর আসামি খাদিজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে জানায়। মামলাটি তদন্তকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামি জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button