ভুয়া ও অপতথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে

সুপ্রাচীনকাল থেকেই এদেশের মানুষ গণতন্ত্রমনস্ক। প্রাচীন বাংলায় আধুনিক গণতন্ত্রের অনুরূপ ব্যবস্থা না থাকলেও জনগণের মতামত, ক্ষমতা ভাগাভাগি ও শাসন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের কিছু ধারণা প্রচলিত ছিল। মৌর্য ও গুপ্ত যুগে ইউনিয়ন বা সংঘের মাধ্যমে এবং পাল ও সেন যুগে স্থানীয় শাসনব্যবস্থায় এরূপ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে ‘মহাসমাজ’ বা ‘গ্রাম্য পঞ্চায়েত’ এর মতো কাঠামোর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনগণের অংশগ্রহণের একটি পরোক্ষ ধারা বিদ্যমান ছিল, যা আধুনিক গণতন্ত্রের মূলনীতির ভিত্তি স্থাপন করে। সামনেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। নির্বাচন ঘিরে অপতথ্য ও সাইবার মাধ্যমে ডিপফেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে শুরু থেকেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে র্যাপিড একশন নেওয়া। কেননা সমাজমাধ্যমগুলো বিশেষ করে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, ইমো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা চুক্তি না থাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে না বাংলাদেশের সাইবার পুলিশ। এক সূত্রে জানা গেছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক স্ক্যান্ডাল ভিডিও বা যেকোনো গুজব ছড়িয়ে পড়লে- সেটি কোনোভাবে শনাক্ত হলেও ব্যবস্থা নেওয়াটা সময়সাপেক্ষ বিষয়। যতক্ষণে ব্যবস্থা নেওয়া হয় ততক্ষণে যে উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে- সেই উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের বাইরে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন গুজব ছড়াতে মরিয়া। এ ছাড়াও নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সাইবার বুলিং, এআই দিয়ে বানানো ডিপফেক ও চিপফেক ভিডিও, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অপপ্রচারের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গুজবকারীদের টার্গেটে পরিণত হতে পারেন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসাররাও। কোনো স্বার্থান্বেষী বা কুচক্রী মহল যাতে ভুয়া, অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল, প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘিœত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো তথ্য যাচাই না করে কোনোকিছু অবলীলায় বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যেকোনো তথ্য, পোস্ট, ছবি কিংবা ভিডিওতে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
