োজুলাই আন্দোলনকারীদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন আন্দোলন’

প্রবাহ রিপোর্ট : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন আন্দোলন (এইম)’ এর আত্মপ্রকাশ করেছে। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি, লক্ষ্য ও রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে শেখ নাজমুস সাকিব। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাফিদ, শামস, স্বাধীন, শিপু, মঈন, তৌফিক শাহরিয়ার, জারিফ, সোহান, ইশতিয়াক, শিপন ও গালিব। পরে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। আহ্বায়ক আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী লিখিত বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সম্ভাবনা যেন কোনো গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত না হয় এবং বিপ্লবের চেতনা ম্লান না হয়, এই শঙ্কা থেকেই প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা। জুলাইয়ের রক্ত যেন বৃথা না যায়, এই ভয় থেকেই আমাদের এই জাগরণ। আমরা কোনো এনজিও বা রাজনৈতিক দোকান খুলতে আসিনি, আমরা এসেছি অধিকার সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এখনো অনিশ্চিত। বিপ্লব নিয়ে আবেগী রোমান্টিসিজমের সময় শেষ; এখন সময় এসেছে হিসাব বুঝে নেওয়ার। সদস্য সচিব শেখ নাজমুস সাকিব বলেন, কোনো দল বা গোষ্ঠী এই রাষ্ট্রের ঠিকাদারি নিতে পারবে না। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নাগরিকের অধিকার- এগুলো দয়া বা ভিক্ষা হিসেবে নেওয়া হবে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও অর্থব্যয়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের পুনর্বাসনে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বলেন, আহতরা হাসপাতালে কাজের দাবি জানাচ্ছেন, অথচ দায়িত্বশীলরা শুধু বুলি আওড়াচ্ছেন। অর্থ পাচারকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণে জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য ও রূপরেখা তুলে ধরেন রবিউস সানি শিপু, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী। রূপরেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণ, আহত ও নিহতদের সঠিকভাবে গেজেটভুক্ত করা, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে উপদেষ্টাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত জাতীয় পর্যায়ের অবিচারের বিচার, মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও শিক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।



