বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিতে ভারতের সিদ্ধান্তে যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। তবে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনসহ দেশের বাইরে ভারতের অন্যান্য মিশন খোলা ও কার্যকর থাকবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতেই এমন সিদ্ধান্ত নিল ভারত।
সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে পিটিআই জানায়, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ হিসেবে ঢাকার হাইকমিশন ও অন্যান্য পোস্টে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিবিসির এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে এখন ‘পরিবার-বহির্ভূত’ দেশ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সুদানের মতো দেশের কাতারে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিবিসি হিন্দি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো প্রমাণ নেই যে আমরা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি।’ বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সমপর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারত যদি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সমান স্তরে রাখে, তাহলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। অবশ্যই, এটা দুঃখজনক। কিন্তু আমি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারব না।’ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই, তাহলে আমাদের প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা আসলেই ভালো সম্পর্ক চাই কিনা। যদি আমরা একের পর এক পদক্ষেপ নিতে থাকি যা সম্পর্ককে ভেঙে ফেলবে, তাহলে তা ঘটবেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ৪০ বছরে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন ভূমিকায় আমার অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে, আমার মনে হয় ভারত কিছুটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। আমি ভারতের কাছ থেকে আরও ভালো প্রতিক্রিয়া আশা করেছিলাম’ ইশতেহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে। খুলনা শহরের সঙ্গে তেরখাদা, রূপসা ও দিঘলিয়ার সরাসরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ভৈরব নদে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন আজিজুল বারী হেলাল। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নগরঘাট ও রেলগেট সেতুর অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে আতাই ও ভৈরব নদে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, আটঘরিয়া নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং জলাবদ্ধ জমি নিষ্কাশনের মাধ্যমে কৃষি জমিকে চাষযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপি প্রার্থী।
শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে ইশতেহারে বলা হয়, পরিত্যক্ত পাট গুদামে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি স্টার জুট মিল চালুকরণ, নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, ইপিজেড ও শিল্প অঞ্চল গঠন এবং অর্থনৈতিক জোন ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শ্রমিক সমাজের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর, রূপসায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষা খাতে আলহাজ্ব সারোয়ার খান ডিগ্রি কলেজ (সেনহাটি, দিঘলিয়া) সরকারিকরণ, পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজ সরকারি করণ, আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও লাইব্রেরি স্থাপন এবং একটি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন আজিজুল বারী হেলাল। যুব সমাজকে দক্ষ ও কর্মমুখী করে তুলতে হাজীগাঁও মিনি স্টেডিয়াম আধুনিকীকরণ, রূপসা ও তেরখাদায় নতুন মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার চালুর কথাও রয়েছে ইশতেহারে। পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। যোগাযোগ ও নগর ব্যবস্থাপনায় নন্দনপুর–রহিমনগরে স্থায়ী সেতু নির্মাণ, ভট্টাচার্য (হার্ডবোর্ড) খেয়াঘাটে ফেরি চালু, দেউড়া খেয়াঘাট সংস্কার, রূপসা ফেরিঘাট টোলমুক্ত করা, সেনের বাজার–গোপালগঞ্জ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ড নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রতিটি পরিবারে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে রূপসায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, সৌর প্যানেল ব্যবহার, আধুনিক সুইচগেট নির্মাণ, পর্যটন কেন্দ্র ও শিশু পার্ক স্থাপন এবং দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট চালুর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়। সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডকে চাঁদা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করা, বাল্যবিবাহ ও মাদক দমন, ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন বিএনপি প্রার্থী। পাশাপাশি রূপসায় কেন্দ্রীয় মসজিদ ও কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আজিজুল বারী হেলাল বলেন, খুলনা-৪ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এই এলাকার সার্বিক পরিবর্তনই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ভোটাররা সুযোগ দিলে ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য খান রবিউল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, শেখ আব্দুর রশিদ, আব্দুস সালাম, আছাফুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম নুর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, গোলাম মোস্তফা তুহিন, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, আবু সাঈদ, সেতারা সুলতানা, গোলাম ফারুক, শেখ আবু সাঈদ, চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, শরিফ নাইমুল ইসলাম, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম রেজা, মো. রয়েল, খালেদা পারভিন সিনথিয়া ও শিহাবুল ইসলাম সিহাবসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।



