হাদি হত্যা মামলা: প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে আরও চার দিন সময়

প্রবাহ রিপোর্ট : ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) আরও চার দিনের সময় দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার নির্ধারিত দিন হলেও তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে দিয়েছেন। হাদি হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটটি জটিল। গত ১২ ডিসেম্বর হাদি গণসংযোগের সময় বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলের পেছনে বসা আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন। দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রুকনুজ্জামান জানিয়েছেন, হাদির মৃত্যুর পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করার দায়িত্ব পরে ডিবি পুলিশ ও সিআইডিকে দেওয়া হয়। ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ এবং তার সহযোগীরা হাদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হত্যা করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যার মূল কারণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালানো হয়।” মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ পাঁচজন পলাতক। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও কয়েকজন অভিযুক্ত আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন তিনবার পেছানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিআইডি এবার ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। তদন্ত শেষ হলে আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী আরও শুনানি ও নির্দেশনা দেবে।



