রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যয় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে

প্রবাহ রিপোর্ট : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বেড়ে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরে বাংলাদেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। এখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রকল্পের মূল খরচা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে স্থগিত ও বিলম্বিত হয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত হয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ডলারের তুলনায় খরচ বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি নয়, তবে টাকার অঙ্কে দেখলে ২৫ হাজার কোটি টাকা বেশি মনে হচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থ প্রকল্প ঋণ থেকে আসবে।” তিনি আরও জানান, সরকারের অর্থায়ন ১৬৬ কোটি টাকা কমানো হয়েছে, ফলে সরকারের অংশ হবে ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের ঋণ এখন ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা, যা আগে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ছিল। একনেকে রূপপুর প্রকল্পসহ মোট ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১৪টি, সংশোধিত প্রকল্প ৬টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প ৫টি। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। রূপপুর প্রকল্প এককভাবে এর অর্ধেকের বেশি ব্যয় দখল করছে। অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রাঙমাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন, চট্টগ্রাম শহরের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি নতুন প্রকল্প নেয়নি। তবে একনেকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”



