জাতীয় সংবাদ

আহনাফের মৃত্যুর বিচারটা কইরেন: আদালতকে মা

# খতনা করাতে গিয়ে মৃত্যুর অভিযোগ #

প্রবাহ রিপোর্ট : খতনা করাতে গিয়ে চিকিৎসকদের অবহেলায় শিশু আহনাফ তাহমিন আয়হামের (১০) মৃত্যুর অভিযোগে করা মামলায় মা খায়রুন নাহারের সাক্ষ্য শেষ হয়। সাক্ষ্যে দায়ী ব্যক্তিদের ‘দৃষ্টান্তমূলক সাজা’ চেয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘আমি বেঁচে না থাকলেও আমার আহনাফের বিচারটা কইরেন।’’ গতকাল রোববার ঢাকার ৭ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদের আক্তারের আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৬ মার্চ মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার জে এস ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল চেকআপ সেন্টারের পরিচালক ও চিকিৎসক এসএম মুক্তাদির, চিকিৎসক মাহাবুব মোরশেদ ও চিকিৎসক ইশতিয়াক আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার শুরুর পর আহনাফের বাবা ফখরুল আলম, তার স্বজন মোন্তাসির আল হাসানের সাক্ষ্য শেষ হয়। আহনাফের মা খায়রুন নাহার গত ১১ জানুয়ারি জানুয়ারি সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন। ওইদিন তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে জেরা শুরু হয়। তবে শেষ হয়নি। গতকাল রোববার অবশিষ্ট জেরার দিন ধার্য ছিল। এদিন স্বামীকে নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন খায়রুন নাহার। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল ও মাইন উদ্দিন জেরা করেন। জেরায় দাবি করা হয়, আহনাফের চিকিৎসায় বাধা দেন তার স্বজনরা। আহনাফের যখন আইসিইউতে চিকিৎসা চলছিল, তখন তারা মব সৃষ্টি করেন। আহনাফকে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সে নিতেও বাধা দেওয়া হয়। আহনাফের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা দাবি করে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘কেমিকেল রিপোর্ট তদবির করে’ বানানো হয়েছে। বিবাদী পক্ষের এসব বক্তব্য সত্য নয় দাবি করে আহনাফের মা বলেন, “আমার সন্তান মারা গেছে। এই অবস্থায় এসে কি মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া যায়?’’ পরে আদালত সবার উদ্দেশ্য বলেন, ‘‘এই মামলার সবচেয়ে ইমোশনাল সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। যদিও আমরা বিব্রতকর কিছু ফেসও করেছি।’’ খায়রুন নাহার আদালতকে বলেন, ‘‘আমি অন্তঃসত্ত্বা। আমি যদি বেঁচে না থাকি, মারা যাই, আমার আহনাফের মৃত্যুর বিচারটা কইরেন।’’ এসময় বিচারক তাকে বলেন, ‘‘আপনি ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছেন; মানসিকভাবে শক্ত থাকবেন; আল্লাহ তৌফিক দিলে ন্যায়বিচার হবে।’’ সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর ফৌজিয়া বেগম বলেন, আগামী ৫ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে ১০ বছর বয়সী আহনাফের খতনা করাতে চিকিৎসক এস এম মুক্তাদিরের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা লিখে দেন। হাসপাতালেই পরীক্ষাগুলো করিয়ে ছেলেকে নিয়ে বাসায় চলে যান ফখরুল। রাতে চিকিৎসক ফোন করে জানান, রিপোর্ট ভালো এসেছে। খতনা করতে কোনো সমস্যা নেই। পরদিন রাত পৌনে ৮টায় স্ত্রী খায়রুন নাহারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাসপাতালে যান তিনি। আহনাফকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর তার বাবা-মাকে আসামিরা জানান, ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগবে। আধা ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর ওটির দরজায় নক করলে বলা হয়, ‘আরও কিছুক্ষণ সময় লাগবে।’ এভাবে এক ঘণ্টা পার হয়ে যায়। তখন ফখরুল ওটিতে ঢ়ুকতে চাইলে তাকে নিষেধ করে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলা হয়। সন্দেহ হলে ফখরুল জোর করে ঢ়ুকে দেখতে পান, তার ছেলে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তার নাকে ও মুখে নল দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে, চিকিৎসকরা বুকে হাত দিয়ে চাপাচাপি করছেন। মামলায় বলা হয়, চিকিৎসক এস এম মুক্তাদিরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সঠিক উত্তর দেননি। “ছেলের এই অবস্থা দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ফখরুল। কিন্তু চিকিৎসকরা কর্ণপাত না করে বুকে চাপাচাপি ও হাত-পা মালিশ চালিয়ে যান। তাকে জোর করে ওটি থেকে বের করে দেওয়া হয়।” এজাহারে বলা হয়, দুই ঘণ্টা পার হলেও ছেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তথ্য না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন চিকিৎসকরা। এরপর জোর করে ওটিতে প্রবেশ করে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button