চাঁদাবাজদের জন্য কমপ্লিট লাল কার্ড : জামায়াত আমির

ইনসাফ কায়েমের অঙ্গীকার
প্রবাহ রিপোর্ট : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন ‘চাঁদাবাজি’ নামক এক নিকৃষ্ট পেশার জন্ম হয়েছে। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘চাঁদাবাজদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’। আমরা কারো সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। যারা এই পথে আছেন, তারা ফিরে আসুন, নয়তো বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ নির্বাচনী আসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তাকে দেওয়া একটি সম্মাননা স্মারক তিনি একজন শহীদ বোনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘এই সম্মান আমার প্রাপ্য নয়; এই সম্মান সেই শহীদদের প্রাপ্য যারা জালিমের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বুক পেতে দিয়েছিল।’
যুবসমাজের উদ্দেশে আমির জামায়াত বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে ‘বেকার ভাতা’ তুলে দিয়ে তাদের অলস বানাতে চাই না। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাতে রূপান্তর করতে চাই, যাতে তারা দেশ গড়ার কারিগর হতে পারে। সাধারণ শিক্ষা, আলিয়া বা কউমি—সব মাধ্যমেই কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে।’
নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। কর্মক্ষেত্র ও যাতায়াতে তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে (পিক আওয়ারে) বড় শহরগুলোতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘ইভিনিং বাস সার্ভিস’ চালু করা হবে এবং সরকারি বাসের নিচতলা তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।’
নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুটি অ্যাপস চালু করছি। একটির মাধ্যমে চাঁদাবাজদের গোপনে চিহ্নিত করা যাবে এবং অন্যটির মাধ্যমে জনগণ সরাসরি তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। নির্বাচিত হলে প্রতি ৬ মাসে একবার জনপ্রতিনিধিদের জনগণের মুখোমুখি হতে হবে এবং সম্পদের হিসাব দিতে হবে।
ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের জলাবদ্ধতা এবং নদী দূষণ নিয়ে তিনি এক অভিনব হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তবে ওই এলাকার এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার এই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তারা নিজেরা ওই পানিতে নামবেন, তখনই নদী পরিষ্কার রাখতে তারা বাধ্য হবেন।’
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা নেই। জুলাইয়ের চেতনা এখনো জাগ্রত। কেউ যদি বাঁকা পথে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে।’ তিনি প্রশাসনকে কোনো দলের পক্ষ না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বিশাল এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ তারিখ ‘ইনসাফ ও আজাদির’ পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।



