জাতীয় সংবাদ

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে: তারেক রহমান

প্রবাহ রিপোর্ট : জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি আরেকটি বিষয় আছে যদি সেটি নিয়ন্ত্রণ না করি তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। অতীতেও বিএনপি প্রমাণ করেছে একমাত্র বিএনপির পক্ষেই তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর সেটা হচ্ছে দুর্নীতি। ক্ষমতায় গেলে বিএনপি যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। এটি দেশের মানুষের কাছে বিএনপির কমিটমেন্ট।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘বিএনপি ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল। বিএনপি সরকার অতীতে প্রমাণ করেছে তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গেছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দায়িত্ব পান তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশকে দুর্নীতির কবল থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
‘আমরা যত পরিকল্পনায় গ্রহণ করি না কেন এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের দুটো বিষয় খুব পরিষ্কার নজর দিতে হবে। কারণ এই দুটো বিষয় বাংলাদেশের জনগণের প্রাপ্য অধিকার, যা তাদের বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে। অতীতে বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনা করেছে বিএনপি প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে এই বিষয়ে আপনাদের বিএনপি সফলভাবে কাজ করতে পার। কী সেই বিষয় দুটো? সেই বিষয় দুটো হচ্ছে এক মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। ব্যবসা বাণিজ্য চাকরি বাকরি সব করতে পারে।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অতীতের মতো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করবে জানিয়ে দলটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক যারা কোন অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িয়েছে আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি।
‘আজ এই দেশের জনগণ এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আমরা একইভাবে সফল ও কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব। যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘেœ জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।’
তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।’ সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের সকল মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। চট্টগ্রাম একটি বাণিজ্যিক শহর; এই শহর নিরাপদ থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষও সারা দেশের মানুষের মতোই চায়—তাদের সন্তানেরা যেন নির্বিঘেœ লেখাপড়া করতে পারে এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হয়। আগামী ১২ তারিখ আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে জনগণের রায়ে আমরা সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনা হবে। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করবে না; বরং সার্টিফিকেটের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহজেই কর্মসংস্থান পাবে। বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক এই শিক্ষাব্যবস্থাই আমাদের লক্ষ্য।’ স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা চাইলেই বলতে পারতাম—অমুক জায়গায় এতগুলো হাসপাতাল করব, তমুক জায়গায় হাসপাতাল করব। কিন্তু আমরা সেই পথে যেতে চাই না। বরং আমাদের লক্ষ্য হলো, গ্রামের প্রতিটি নারী-শিশু ও প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন রক্ষা করেছে। এখন দেশের মানুষ এমন অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার নিশ্চিত সুযোগ পাবে। কেবল সমালোচনায় মানুষের কোনো উপকার হয় না। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই জনগণের জন্য কাজ করেছে।’
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উৎপাদন বাড়াতে কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়।’ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খাল-নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কাটার কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’
চট্টগ্রামের শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির আমলেই ইপিজেড গড়ে উঠেছে, যেখানে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।’
দীর্ঘ দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান এবং সেখানে রাত্রিযাপন করেন।
দলীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন। এরপর তিনি পলোগ্রাউন্ড মাঠের মহাসমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, মহাসমাবেশ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীকে রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে—রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। সে সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button