প্রস্তাবিত পে-স্কেল: উসকে দেবে মূল্যস্ফীতি

সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ করার সুপারিশসংবলিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে যেই বিতর্ক উঠেছে, তা সংগত। সর্বনি¤œ, অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে মূল বেতন আট হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার এবং প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে এসব সুপারিশ রেখে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে সমাজে আয়-বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতি উস্কে দেবে। এতে করে সাধারণ মানুষ নতুন করে চাপে পড়বে। প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে নতুন সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এটি বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থের জোগান দেয়াই হবে চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য সরকারের আয় বাড়াতে হবে। ফলে পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে একধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। প্রস্তাবিত পে স্কেল কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতিতে এই সুপারিশ বাস্তবায়নের সক্ষমতা নেই। অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। রাজস্ব বাড়াতে গিয়ে যদি অযৌক্তিকভাবে ভ্যাটের মতো পরোক্ষ কর বাড়ানো হয়, তাহলে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষের পক্ষে বাড়তি করের বোঝা নেয়ার সুযোগ নেই। তাই আয় না বাড়িয়ে একসঙ্গে সব স্তরে বেতন বাড়ানো অযৌক্তিক। চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি আরও বেড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। সরকারের আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ানোর ছক কষেছে সরকার নিজেই। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারাও বলছেন, বেতন বাড়ানোর পরপরই দেখা যাবে বাজারে সব পণ্যের দাম দেড়-দুই গুণ বেড়ে গেছে। তাই বেতন বাড়ানোর চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
