কেউ বাড়াবাড়ি করছে কিনা, জানতে চাইলেন মার্কিন দূত

প্রবাহ রিপোর্ট : নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনী মাঠে কেউ বাড়াবাড়ি করছে কিনা, তা জানতে চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বুধবার মার্কিন দূতের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভোটে আমরা কী করছি, কীভাবে ভোট গণনা করা হবে, কোথায় ফলাফল আসবে, রেফারেন্ডামের ব্যালটের সঙ্গে গণনার সময়সীমা কত-ইত্যাদি বিষয় জানতে চেয়েছেন তিনি। আমি তাঁকে আমাদের ব্যালট পেপারের আকার ও আকৃতি সম্পর্কে বলেছি। সেটার একটি নমুনাও দেখিয়েছি। ইসি সচিব বলেন, আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন আমাদের কোড অব কন্ডাক্টের কথা-যে সব বিষয় আসছে সেগুলো সম্পর্কে। আমরা বলেছি যে আমাদের এখানে কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেল আছে। আর আমাদের আসনগুলোর লেভেলে যে ইনকোয়ারি কমিটি ও ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়গুলো সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় জানতে চাচ্ছিলেন-কোনো জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কারো পক্ষ থেকে কোনো ওভারডুয়িং (বাড়াবাড়ি) হয়েছে কিনা, সে ধরনের কোনো খবর আছে কিনা। আমি বললাম, প্রাথমিকভাবে খবরগুলো স্থানীয়ভাবে আসে। আমাদের এখানে এমন কোনো কিছুর তথ্য নেই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে স্থানীয়ভাবে সেটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আর যদি স্পেসিফিক কোনো কিছু বলেন, তাহলে আমরা এ বিষয়ে উত্তর দিতে পারব।
এদিকে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কারও পক্ষ নেবে না। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে তারা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে। বুধবার দুপুরে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমি খুবই আগ্রহী। আমি এই নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি এবং এর ফলাফল দেখার জন্য মুখিয়ে আছি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের, এবং শুধু বাংলাদেশের জনগণেরই। বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে, আমরা সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত। রাষ্ট্রদূত বলেন, গত সপ্তাহে যখন আমি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, তিনি আমাকে বলেন যে-তিনি আশা করছেন, নির্বাচন দিবসটি একটি উৎসবমুখর দিন হবে। আমি আশা করি এটি একটি আনন্দময় ও উৎসবপূর্ণ নির্বাচন হবে, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে গিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং আপনারা একটি অত্যন্ত সফল নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে তথ্যগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, সেগুলো নিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আপনাদের সবার মতো আমিও ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। এর আগে বেলা ১২টার দিকে সিইসির দপ্তরে বৈঠক শুরু হয়। এতে ইসি সচিব আখতার আহমেদও অংশ নিয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু ও ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।



