দুই ঠিকাদারে হাতে জিম্মি খুলনার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা বর্তমান দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি। শেখ বাড়ীর আশীর্বাদপুষ্ট বেড়ে উঠা মেসার্স তাকবীর এন্টারপ্রাইজ ও মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিঃ এর হাতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মচরীরা বেতন-ভাতা না পেয়ে কাজ করলেও বেতনের সময় আসলে বেতনের একটি অংশ কেটে নিয়ে প্রতি বছর কোটি, কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই এই চক্রটি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ভুক্তভোগী এসব আউটসোর্সিং কর্মচারীরা মানববন্ধন সংবাদ সম্মেলন সংবাদ প্রকাশ তারপর তদন্ত কমিটি গঠণ করলেও ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছে এই দুই চক্র। জানাযায়, খুমেক হাসপাতালে ২০১৯ সালে আউটসোর্সিং কর্মচারীর দরপত্র আহবান করেন তৎকালিন হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ মঞ্জুর মোর্শেদ। তবে, শেখ সোহেলের ও তার বন্ধু খাালিশপুর থানা আওয়ামলীগের সহ-সভপাতি কাজী ফয়েজ মাহমুদের সহযোগীতায় কাজ পাইয়ে দেন মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিসেস ও কন্ট্রাক্ট ক্লিনিং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।এরপর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। খুমেক হাসপাতালে মোট তিনটি লটে ২০৬ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও তিনি নিয়োগ পত্রদেন ৫শ জনের। প্রতি জনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ দেন এই ঠিকাদার। এছাড়া বেতনের সময়ে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন না দিয়ে একটি অংশ কর্মচারীদের কাছ থেতে চেক নিয়ে উত্তলন করে নিতেন এই ঠিকাদার হেমায়েত হোসেন ফারুক। এছাড়া খুলনা সিভিলসার্জন অফিস ২০২২ সালে সিভিল সাজর্ন অফিস, খুলনা সদর হাসপাতাল সহ মোট ৯টি উপজেলা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মোট ২১৪ জনের জনবল সরবরাহ দরপত্র আহবান করেন । তবে একই ভাবে শেখ সোহেলকে ম্যানেজ করে তার বন্ধু কাজী ফয়েজ মাহমুদের মাধ্যমে নিতিমালা উপেক্ষা করে তাকবীর এন্টারপ্রাইজকে কাজ বাগিয়ে দেন। এরপর থেকে প্রতিবার বেতন দেয়ার সময়ে জন প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এই ঠিকাদার মোঃ ইকতিয়ার হোসেন। এছাড়া গেল দেড় বছরের বেশি সময় বেতন না দিয়ে তালবাহানা করে । মুলতঃ ব্যক্তিগত স্বার্থে খুলনা সিভিল র্স্জান অফিস যেন নতুন ভাবে দরপত্র আহবান করতে না পারে এসব দরপত্র কার্যক্রম বন্ধের জন্য তিনি উচ্চ আদালতে একটি রীট করেছেন। এতে করে গরীব অসহায় এসব কর্মচারীরা বেতন কবে পাবে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তার।এ বিষয়ে মাছরাঙ্গা সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাঃ লিঃ এর পরিচালক হেমায়েত হুসাইন ফারুকের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। তবে, মেসার্স তাকবীর এন্টার প্রাইজের পরিচালক ইকতিয়ার হোসেন বলেন, আমি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য চেষ্টা করেছি। সিভিল সার্জন অফিস সময় মত চিঠি না দেয়ার কারনে বেতন আটকে আছে। কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য উচ্চ আদালতে রীট করেছি। এ বিষয়ে খুলনা সিভিলসার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, আমরা কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন এখনও পায়নি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উচ্চ আদালতে রীট করেছেন। যে কারণে বেতন দিতে পারছিনা। আমরা চিঠি দিযেছি যে দ্রুত বেতন পরিশোধের জন্য ব্যবস্থা নিতে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কাজী আইনাল হক বলেন, আমরা কিছু দিন আগে নতুন ভাবে আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ জন্য দরপত্র আহবান করেছি। এখন যারা কাজ করছেন সবাই ফ্রি সার্ভিস হিসেবে কাজ করছে। আমি সব কিছু জানি তবে, প্রশাসনিক জনবল সংকট সহ অন্যান্য চাপ থাকার কারণে তারা বেপরোয়া ছিল ।এছাড়া ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়মের তথ্য পেয়েছি। আমরা কয়েকবার তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। নতুনভাবে জনবল সরবরাহ হলে সব কিছু স্বাভাবিক হবে। এছাড়া জনবল না থাকলে হাসপাতার সেবা কার্যক্রম জটিলতা দেখা দিতে পারে।



