ভালোবাসা এবং সম্মানের সমাজ গড়ে তোলা হবে : অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান

# ৮নং ওয়ার্ডের শ্রমিক-কর্মচরীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও গনসংযোগ
মালিক এবং শ্রমিকের সমন্বয়ে একটি পারস্পারিক #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, মহানগরী আমীর ও খুলনা-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে মালিক শ্রমিকের মাঝে কৃত্রিম সংকট ও সমস্যা সৃষ্টি করে একদল মানুষ ফায়দা লুটছে। ষড়যন্ত্রকারীদের ফাঁদে পা দিয়ে শ্রমিকরা অনেক সময় নিজেদের কর্মস্থল ধ্বংস করছে। তারা বুঝতে পারছে না কর্মস্থল ক্ষতিগ্রস্থ হলে তারা দাবি জানাবে কোথায়? অপরদিকে কিছু মালিক অধিক মুনাফা করতে গিয়ে শ্রমিকদের পেটে আঘাত করছে। ফলে শ্রমিকরা কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে। এতে উভয়ের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা শ্রমিক-মালিকের মাঝে সব প্রকার দ্বন্দ্বের অবসান চাই। তিনি বলেন, শ্রমিক এবং কর্মজীবী মানুষ নানাভাবে নির্যাতিত এবং তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। মিল, ফ্যাক্টরি ও ইন্ডাষ্ট্রিতে শ্রমিকদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হয় না। তাদের শ্রমের মর্যাদা দেওয়া হয় না। এখনো বহু কলকারখানার কর্মপরিবেশ ঠিক করা যায়নি। সত্যিকারার্থে আমরা যদি টেকসই বাংলাদেশ গড়তে চাই, একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই-তাহলে সমাজের প্রত্যেকে পরস্পর সম্মান এবং ভালবাসা দিয়ে এ সমাজকে গড়ে তুলতে হবে। যেদিন মালিকরা শ্রমিকদেরকে মন থেকে ভালোবাসবে এবং সম্মান দেবে সেদিন শ্রমিকরা মালিকের ষোলআনা পূরণ করবে। আর শ্রমিক যতদিন পর্যন্ত অনুভব করবে আমার মালিকতো আমাকে মানুষই মনে করে না। ততদিন পর্যন্ত মালিকের আয় উন্নতি বাধাগ্রস্ত হবে। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মূল কাজ হচ্ছে মালিক এবং শ্রমিকের সমন্বয়ে, একটি পারস্পারিক ভালোবাসা এবং সম্মানের সমাজ গড়ে তোলা। আমরা সেই সমাজটাকেই দেখতে চাই। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী শিল্পাঞ্চল খালিশপুরের ৮নং ওয়ার্ডের ক্রিসেন্ট জুট মিলস স্টাফ, শ্রমিক ও কর্মচরীদের মাঝে গনসংযোগকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
এ সময় তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খুলনা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফরাজী, খালিশপুর থানা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৮নং ওয়ার্ড আমীর আবু সাঈদ চৌধুরী আরিফ বিল্লাহ, আল কাওছার আমীন, এডভোকেট সাঈদুর রহমান, বেবি জামান, বিপ্লব হোসেন বাবু প্রমুখ।
অদ্যাপক মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, সংগঠন থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে আপনাদের সেবা করার জন্য। আমি আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। ইসলামী রাষ্ট্র হবে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থা। এখানে বৈষম্যের কোনো স্থান থাকবে না। কল্যাণ রাষ্ট্রে সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাই আমি দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করুন, যাতে আমি আপনাদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি। তিনি বলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রমিকদের পাশে ছিল, থাকবে। তাদেরকে নির্বিঘেœ কাজ করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এলাকার সকল ধরণের চাঁদাবাজকে দূর করতে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আগামী দিনে একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ পরিচালনা করতে ভূমিকা রাখবে।



