স্থানীয় সংবাদ

যাত্রা আমাদের ইতিহাস ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ: দীপক কুমার গোস্বামী

খুলনায় ৫দিনব্যাপী যাত্রাপালার সমাপ্তি

খবর বিজ্ঞপ্তি।।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় মানুষের আনন্দ, বিনোদন ও সামাজিক সচেতনতার শক্তিশালী মাধ্যম হলেও অবহেলা, অনাদর ও নানামুখী সংকটে এই লোকজ শিল্প তার গৌরব হারিয়েছে। যাত্রাশিল্পকে নতুন করে বাঁচিয়ে তুলতে হলে শিল্পীদের নতুন ও মানসম্মত পালা নিয়ে এগিয়ে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্য ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী।
বৃহস্পতিবার (২৯জানুয়ারি) খুলনা শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় বাংলাদেশ যাত্রামালিক সমিতি আয়োজিত ৫দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত যাত্রাপালার শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কতঅ বলেন। তিনি বলেন, যাত্রাশিল্প শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও মূল্যবোধ।
দীপক কুমার গোস্বামী বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাত্রাদলগুলোকে আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পালার বিষয়বস্তু, উপস্থাপন ও ভাষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে অশ্লীলতা ও নেতিবাচক উপাদান পরিহার করে সুস্থ ও রুচিশীল বিনোদন উপহার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যাত্রাশিল্পের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো সময়োপযোগী গল্প, আধুনিক উপস্থাপন ও মানসম্মত পরিবেশনার অভাব। যাত্রাশিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, বহু যাত্রাশিল্পী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিয়মিত মঞ্চ, অনুমতি জটিলতা এবং আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক শিল্পী এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে যাত্রাশিল্পের ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ছে। যাত্রাশিল্প রক্ষা করা মানে শুধু একটি বিনোদনধারা বাঁচানো নয়; এটি গ্রামবাংলার শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রশ্ন। যথাযথ উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়।
খুলনা জেলা কালচারাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ যাত্রাশিল্পি মালিক সমিতির সভাপতি সোহেল হায়দার খান জসিম, বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন, এম এ মান্নান, আব্দুল মজিদ প্রমূখ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ যাত্রাশিল্প মালিক সমিতির আয়োজনে অসচ্ছল যাত্রাশিল্পীদের সাহাযার্থে পাঁচ দিনব্যাপি সৃজনশীল যাত্রা উৎসব এর উদ্বোধন হয় ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button