যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে হুমকি-ধামকি, চাঁদাবাজি এবং নির্যাতন করছে, তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষ নিরাপদ থাকবে না : মিয়া গোলাম পরওয়ার

# ডুমুরিয়ায় বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা, নির্বাচনী জনসভা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ প্র ার্থী সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে হুমকি, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি এবং দলীয় স্বার্থের জন্য নির্যাতন চালায়, তারা ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপদ থাকবে না। তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের ওপর যারা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ডুমুরিয়ার মানুষ নিরাপদ থাকতে পারবে না। এই কারণে এবার লুটপাট, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিসবই আমরা দমন করব। আমরা ৫৪ বছরের ব্যর্থ শাসকদের লাল কার্ড দেখাবো।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে ভীতি ছড়িয়ে জনগণকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। একটি মহল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা বলে দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে হিন্দু ভোটারদের পা ভাঙা হবে, নারীরা সিঁদুর বা বোরখা পরে থাকতে বাধ্য হবে। এটি সম্পূর্ণ অপপ্র চার। ইসলামী শাসনের অধীনে সবাই নিরাপদ থাকবে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন, গুটুদিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর, গোলনা, খলশিসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, পথসভা, নির্বাচনী জনসভায় প্র ধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। ডুমুরিয়া উপজেলার ১১নং ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নে গনসংযোগ ও উঠান বৈঠক এবং সাজিয়াড়া মোড়সহ তার আশপাশ এলাকায় গনসংযোগ করে সাজিয়াড়া মোড়ে পথসভা ইউনিয়ন সেক্রেটারি মশিউর রহমান এর সভাপতিত্বে ও ইজাজুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্র ধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল কাইউম জোমাদ্দার, খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মোমিনুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট অশোক কুমার সিংহ, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্র সাদ মন্ডল, ডুমুরিয়া সদর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তাহের, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা শরিফুল ইসলাম সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরে মারকাজুল উলুম মাদরাসায় উঠান বৈঠক করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জিন্নাত আলী। পরে গোলনায় উঠান বৈঠক ইউনিয়ন আমীর আবুল গণি খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা মির্জাপুর, গোলনা, খলশিসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভায় প্র ধান অতিথি ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল কাইউম জোমাদ্দার, খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ছাত্রশিবিরের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মোমিনুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট অশোক কুমার সিংহ, সেক্রেটারি দেব প্র সাদ মন্ডল, গোলাম কিবরিয়া মিন্টু, অধ্যক্ষ শেখ জালাল উদ্দীন, অধ্যক্ষ আলী হায়দার, মুফতি শরিফুল ইসলাম, সরদার আব্দুল ওয়াদুদ, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, হাফেজ বেলাল হোসেন, আব্দুল গনি, মাওলানা মোসলেম উদ্দিন, অরুণ আচার্য্য, মুহা. মশিউর রহমান, মাওলানা মনিরুল ইসলাম, সৈয়দ আলমগীর হোসেন, রুহুল কুদ্দুস প্র মুখ। তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ অন্যান্য ১১ দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে উঠে আসে রাজনীতির ইতিহাস ও বারবার ব্যর্থ শাসনের দিকে কঠোর সমালোচনা। তিনি স্মরণ করান, ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানি শাসন, সামরিক শাসন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের তিনটি সরকার সবই জনগণের আশা ম্লান করেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, মানুষের কল্যাণ সবই রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভে প্র ভাবিত হয়েছে। রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এসেছে, কিন্তু শাসকরা শোষণ ছাড়া কিছু দেয়নি।
তিনি প্র তিপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আপনারা ভয় দেখাতে পারেন, কালো টাকা ছড়াতে পারেন, কিন্তু জনগণ এখন আর বিভ্রান্ত হবে না। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরব। কোনো হামলা নয়, কোনো উসকানি নয় জনগণের বিবেকই আমাদের শক্তি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ১১ দলের জোটের অংশ হিসেবে শক্তিশালী প্র তিশ্রুতি দেন যে, ইনশাআল্লাহ, গণতান্ত্রিক ও ইসলামী চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা হবে। তিনি বলেন, এই জোট ইসলামী চেতনা, জুলাই চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
পথসভায় তিনি উদাহরণ দেন, ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মাত্র ২০ জন ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর। সেই ক্ষুদ্র শক্তি দিয়ে আমরা সরকারের নীতি পরিবর্তন করতে পারিনি, কিন্তু পার্লামেন্টে ডুমুরিয়ার মানুষের কল্যাণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের প্র তিবাদ অব্যাহত ছিল। এবার আমরা গণতান্ত্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব, বলেন তিনি।
তিনি সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আশ্বাস দেন, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। ইসলামী শাসন বাস্তবায়িত হলে হিন্দু ভাই ও বোনেরা সব ধর্মীয় স্বাধীনতা, অনুষ্ঠান, রীতি-নীতি সম্পূর্ণভাবে পালন করতে পারবেন। কোনো হুমকি, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা থাকবে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি দল চাঁদাবাজি, মাস্তানি করে চলছে। জনগণ আর ভুয়া প্র তিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হবে না। আমরা ভোটারদের কাছে সরাসরি বিষয়গুলো তুলে ধরব।
তিনি নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২০০১ সালে দাড়িপাল্লার ভোটে তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তখন সন্ত্রাস দমন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের কাজ করেছেন। আমরা যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে সন্ত্রাস দমন করেছি, ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্র কল্প সততার সঙ্গে সম্পন্ন করেছি। ২০-২৫ বছরের ব্যর্থ উন্নয়ন আমরা চেষ্টা করে করেছি শেষ করার, বলেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই নির্বাচনে কোনো সহিংসতা চাইছেন না, বরং ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন। হিন্দু ভোটারদের ওপর হুমকি দেওয়া হলে আমরা প্র শাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করব। জনগণ নিজের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করবে। দাড়িপাল্লার ভোট মানুষকে মানবিক, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা চাই নতুন বাংলাদেশ, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও আইন শাসন প্র তিষ্ঠিত হবে। জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকলে, ইনশাআল্লাহ, সবাই নিরাপদ, উন্নত ও সম্মানিত জীবন যাপন করবে।


