স্থানীয় সংবাদ

দিঘলদ্বীপ দিঘলিয়ায় পাখি শিকারীদের অপতৎপরতা যেন থামছেনা

সৈয়দ জাহিদুজ্জামান দিঘলিয়া প্রতিনিধি ঃ খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার দিঘল দ্বীপে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঝাঁক বেঁধে পাখির বিচরণ। তাদের কিচিরমিচির ডাক মানুষকে মুগ্ধ করে । নানা রং আর আকৃতির সেসব পাখির ক’জনে চিনে। পাখির কূজনে মুখরিত হয় নদীপাড়, বিল, বনসহ সবখান। প্রতিবছর শীত মৌসুমের শুরুতে এদেশের জলাশয় ক্ষেতে খামারে আগমন ঘটে নানা রঙের, নানা জাতের, নানা আকৃতির অতিথি পাখি। এ সব পাখি ছেয়ে যায় জলাশয়ে, মাঠে মাঠে ও বড় বড় জঙ্গলের বৃক্ষরাজিতে। আতাই নদীর পাড়ে সবুজ গাছের উপর ভিড় জমায় বিচিত্র সব দেশি পাখি। প্রকৃতির সৌন্দর্যে পাখির আনাগোনা যেন ভিন্ন এক মাত্রা যোগা করে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ওদের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় পাখি শিকারীদের আনাগোনা। শিকারীর রক্তে জাগে খুনের নাচন। রাবার গুলতি ও ইয়ার গান নলে চকচক করে লোভ। যদিও ৭৩-এ বন্য জন্তু (সংরক্ষণ) অধ্যাদেশ অনুসারে জীবজন্তু হত্যা, ফাঁদ পেতে ধরা বা অন্য কোনো উপায়ে ক্ষতি করা আইনত দ-নীয় অপরাধ। কাগজে এ আইনের ভয়ে শিকারীরা দমে না। শৌখিন পাখি শিকারীদের উপদ্রব তাতে খানিকটা কমলেও পেশাদার পাখি শিকারীদের তৎপরতা একটুও কমেনি। শীতের পাখি আসা শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গে দীঘল দ্বীপের আতাই নদীর পাড় এলাকায় ধূম পড়ে যায় পাখি শিকারের। নানা রকমের পাখি শিকার ফন্দি, পিঞ্জর ও ফাঁদ তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এলাকায় মানুষের নির্ভরতা বছরে ১ থেকে ২টি মাত্র ফসলের উপরে। সে কারণে অনেকেই শীত মৌসুমে পাখি শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করে। পাখি শিকার মানেই নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা আর নৃশংসতা। বাজারে দশ-বিশ-একশো টাকায় পাখি বিক্রি হতে দেখা যায়। রাতের বেলা ফাঁদ পেতে বন্দি করা হয় পাখিদের। দিনে এয়ারগান, চামের গুলতি- এসব ব্যবহার করে মারা হয় পাখি। এখানে একটি ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়া দরকার যে, পাখি শিকারের অস্ত্র হিসাবে প্রধানত এয়ারগান ব্যবহার করা হয়। কার্যকারিতার দিক থেকে পাখি মারা ছাড়া আর কোনো কাজে এয়ারগানের ব্যবহার নেই। এয়ারগান কেনা আর লাইসেন্স করার উদ্দেশ্য একটাই-পাখি শিকার। আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা এসব যে জানেন না তা নয়। ভালোই জানেন তারা। কিন্তু সব জেনেও কেন এয়ারগান ব্যবহার অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে না?
সৌন্দর্যই শুধু নয়, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যেও পাখিদের বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজন আছে। পাখি হলো প্রকৃতির কীটনাশক। পাখির সংখ্যা কমে গেলে কীটপতঙ্গের অত্যাচারে অসম্ভব হয়ে পড়বে ফসল ফলানো। সেটিই যদি হয়, তাহলে নির্ভর করতেই হবে কীটনাশকের উপর। কিন্তু এটি তো পরিবেশের জন্যে খুবই ক্ষতিকর। যে দেশে পাখি বেশি সে দেশে পর্যটকের সংখ্যাও বেশি। কাজেই পাখি ঘাটতি অবশ্যই উদ্বেগের ব্যাপার। যে পাখি নিসর্গকে এতো সুন্দর করে, চোখকে এতো প্রশান্তি দেয়, সৌন্দর্য চেতনাকে এতো আলোড়িত করে, নিরীহ সে পাখির প্রাণ নেওয়াতে কী এতো সুখ মানুষের? পাখিদের কলকাকলীতে ভরে উঠুক আমাদের চারপাশ। শিকারীর বন্দুকের আঘাতে যেন ডানা ভেঙ্গে থুবড়ে না পড়ে কোনো পাখি। সেক্ষেত্রে প্রচলিত আইনকে প্রয়োগ করতে হবে কার্যকরভাবে। তৎপরতা বাড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে। পাশাপাশি নদীর পাড় ও বিল প্রকাশ্যে রাজপথে দিনের পর দিন পাখির বিপণন বন্ধ হলে পাখি শিকার প্রবণতা কমে যাবে, সেটি সহজেই বোঝা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button