শেষ হলো সেন্টমার্টিনের পর্যটন মৌসুম, আগামী ৯ মাস যাওয়া যাবে না সেন্ট মার্টিন

প্রবাহ রিপোার্ট : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ আজ রোববার থেকে পরবর্তী ৯ মাসের জন্য বন্ধ হতে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম শেষ হচ্ছে। সকাল ৭টায় কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে মৌসুমে শেষবারের মতো সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ৬টি জাহাজ। বিকেল ৫টায় জাহাজগুলো প্রায় ২ হাজার পর্যটক নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ফিরতি যাত্রা করার কথা রয়েছে। সি ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (স্কোয়াব) এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বছর অন্তত ১ লাখ ১০ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন, নানা সীমাবদ্ধতার কারণে অতীতের তুলনায় এবারের এই সংখ্যা অনেক কম। সময় কিছুটা বাড়ানো হলে পর্যটন ব্যবসায়ী ও দ্বীপবাসীদের জন্য ভালো হতো। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও এ বছর পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, রোববার (আজ) থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। সরকার যদি এ বিষয়ের নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংক্ষিপ্ত পর্যটন মৌসুম হওয়ার কারণে দ্বীপের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবিক বিবেচনায় অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই পর্যটননির্ভর। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ। সময়টা কিছুটা বাড়ানো গেলে স্থানীয়দের জন্য টিকে থাকা সহজ হতো। সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো বিনিয়োগের টাকা তুলতে পারেননি। বেশির ভাগই এবার লাভের বদলে লোকসানে পড়েছেন। পর্যটক বন্ধ থাকায় আগামী কয়েক মাস মানুষের কষ্ট বাড়বে। ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে সরকার, কিন্তু সে মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় চলেনি কোনো জাহাজ। ১ ডিসেম্বর থেকে দুই মাসের জন্য কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়।



