জাতীয় সংবাদ

ব্যালটে প্রমাণ করতে হবে ‘দেশপ্রেমিক শক্তি অবিচল’: পথসভায় তারেক রহমান

প্রবাহ রিপোার্ট : জনগণের ঐক্যকে বিএনপির শক্তির মূল উৎস হিসেবে তুলে ধরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে ‘দেশপ্রেমিক শক্তি অবিচল’। উত্তরাঞ্চল সফলের তৃতীয় দিনে গতকাল শনিবার দুপুরে বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ যাওয়ার সময় এক পথসভায় তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে দেশপ্রেমিক শক্তি অবিচল। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।” তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত ধাপ, যেখানে ব্যালটই হবে প্রধান হাতিয়ার।” বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বন্দরে এই পথসভায় তিনি বগুড়া-৭ (শাহজাহানপুর-গাবতলী) আসনে দলের প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টনের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমি ঘরের ছেলে আপনাদের। আবারও বসবো ইনশাআল্লাহ। বিএনপি বিজয়ী হলে এলাকার সব উন্নয়ন হবে।” সকাল ৯টা থেকেই বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া বন্দর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান নেতাকর্মীদের ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দুপুর দেড়টায় তারেক রহমান শাহজাহানপুর থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। ‎পথসভা শেষে গাড়িবহর নিয়ে তিনি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সমর্থকরা তাকে করতালি ও স্লোগানে অভিবাদন জানান। এদিন সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে বক্তৃতা করবেন তারেক রহমান। এ জনসভা শেষে বিকালে টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় তার আরেকটি নির্বাচনি জনসভা রয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার গাড়ি বহর বগুড়ার হোটেল নাজ গার্ডেন ত্যাগ করে। তার আগে নাজ গার্ডেনের বলরুমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু- নন্দীগ্রাম) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমাদের নেতা বহুদিন পর কাছাকাছি থেকে মতবিনিময় করলেন এবং সকলের খোঁজ নিয়ে সতর্কতার সাথে ভোটে মনোযোগী হতে নির্দেশ প্রদান করেছেন।” জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকে ছিলেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর হেন, সদর বিএনপির সভাপতি মাখতুম রুবেল, শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক হিরু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন চান, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২(শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ (আদমদীঘী- দুপচাঁচিয়া) আসনের প্রার্থী মুহিত তালুকার, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর) আসনের প্রার্থী মোর্শেদ মিল্টন। নাজ গার্ডেনের কর্ণধার শোকরানা বলেন, “বিএনপি চেয়ারম্যান সকালে নাস্তা সেরে হোটেল ত্যাগ করেছেন। উনার অবস্থানকালে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাইরের কোনো অতিথি রাখি নাই।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একইদিন গণভোট হবে। সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরাণ (র.) মাজার জিয়ারতের পর গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়নগঞ্জে ৭টি সমাবেশ করেন তিনি। এরপর গত রোববার চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয় পর্বের প্রচারাভিযান চালান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেদিন চট্টগ্রামসহ ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। একদিন বাদে গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে বিভাগীয় জনসভা করেন তিনি। তারেক রহমান সেদিন গাজীপুর ও ঢাকার উত্তরায় আরও দুটি সমাবেশে বক্তৃতা করেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে তিন দিনের নির্বাচনি সফর শুরু করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button