কেডিএ’র বিতর্কিত সচিব বদিউজ্জামানের খুঁিটর জোর কোথায়?

# কেডিএ’তে থেকে যাওয়ার পায়তারা করছেন #
# ১৩ দিনেও বদলীর আদেশ কার্যকর হয়নি #
# সুযোগ খুঁজছেন সরকার পরিবর্তন হলে তদবীর করে থেকে যাবেন #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ কেডিএ’র বিতর্কিত সচিব মোঃ বদিউজ্জামান বারবার কেডিএ থেকে বদলী হলেও কেডিএ’তে ফিরে আসছেন। এবার সর্বশেষ বদলীর আদেশ হয় গত ১৮ জানুয়ারি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মোঃ রফিক স্বাক্ষরিত আদেশে বদিউজ্জামানকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদে বদলীর আদেশ প্রদান করা হয়। বদিউজ্জামানের ইতিহাস হলো তিনি বদলী হলেও শক্ত তদবীর করে ফের ফিরে আসেন। বদলী আদেশের ১৩দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কার্যকর হয়নি সে আদেশ। কেডিএ কর্তৃপক্ষ তাকে এখনো অবমূক্ত করতে পারেনি।
২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. বদিউজ্জামানকে মাগুরা জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হিসেবে বদলী করা হয়। সেই আদেশ বাতিল করে বদলী হয়ে আসেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (কেডিএ)। যোগ দেন কেডিএর পরিচালক (এস্টেট) হিসেবে। পরের ৪ বছরে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে অসংখ্যবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আরও দুই দফা বদলী করা হয় মো. বদিউজ্জামানকে। সেই বদলী আদেশ বাতিল করে কেডিএতে আরও বড় পদে ফিরেছেন তিনি। বিশ্ব বসতি দিবসে শেখ মুজিবের পুরানো লিফলেট বিতরণের কারণে গত ১৮ জানুয়ারি তাকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক হিসেবে বদলী করা হয়েছে। এখন তিনি চেষ্টা করছেন কেডিএর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সদস্য হিসেবে ফেরত আসার। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। কেডিএ থেকে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে প্রবেশ করেন মো. বদিউজ্জামান। তাদের পরিকল্পনায় পরের বছরই ২০২২ সালের ২৪ মে কেডিএর ময়ূরী প্রকল্পের ১৫টি প্লট গোপনে ভাগবাটোয়ারা করে নেন বদিউজ্জামানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। রুনু রেজা তার ঘনিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির নামে একাই নেন ৪টি প্লট। এনিয়ে তোলপাড় শুরু হলে অনিয়ম বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট মো. বদিউজ্জামানকে বরিশালের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হিসেবে বদলী করা হয়। কিন্তু রুনু রেজার তদবিরে একমাস পর ২১ সেপ্টেম্বর তিনি কেডিএর সচিব হিসেবে আবার কেডিএতে বদলী হয়ে আসেন। এরপরই প্লট দুর্নীতির তদন্ত গতি
হারায়। সূত্রটি জানায়, ১৫টি পদে পছন্দের লোক নিয়োগ নিতে একজন সাবেক এমপি’র পরিকল্পনায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ৮০০ ব্যক্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন মো. বদিউজ্জামান। ২০২২ সালের ৭ অক্টোবর (শুক্রবার) ৬ ক্যাটাগরির পদে ১৫ জনের নিয়োগ পরীক্ষা গ্র হণ করে কেডিএ। ওই পরীক্ষায় আট শতাধিক প্রার্থী অংশ নেন। শুক্রবার গভীর রাতে লিখিত পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে নেওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষা। বিকেলেই ১৬ জনকে চূড়ান্ত নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর কেডিএর বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে শেখ মুজিবের লিফলেট বিতরণ করে সমালোচিত হন তিনি। এনিয়ে আমারদেশে সংবাদ প্রকাশ হলে গত ১৮ জানুয়ারি তাকে বদলী করা হয়। এ ব্যাপারে মো. বদিউজ্জামান বলেন, নিয়ম মেনেই প্লট বরাদ্দ নিয়েছি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমার সংশ্লিষ্টতা ছিল না। প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাই বদলী করেন, এখানে আমার হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। এব্যাপারে কথা হয় কেডিএ’র সহকারি পরিচালক ইজাদুর রহমানের সাথে তিনি বলেন, “৩০ জানুয়ারি ছিল আমাদের পিকনিক, এরপর নির্বাচনের ব্যস্ততায় তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মত কেউ আসেনি। তার পরিবর্তে এখানে সচিব পদে আর কোন আদেশ এখনো না আসায় চেক স্বাক্ষর সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে তাকে ছাড়া হয়নি। তবে তিনি চলে যাবেন এটা কনফার্ম।” তবে কেডিএ’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “তাকে আর কেডিএতে দেখতে চায় না এমন কর্মকর্তা-কর্মচারির সংখ্যা অনেক বেশি। তিনি নির্বাচন পর্যন্ত কোন রকমে থাকতে পারছেন তার স্থলে কোন সচিবের বদলীর আদেশ এখনো আসেনি তাই।

