জাতীয় সংবাদ

প্রায় দুই যুগ পর তারেক রহমান খুলনার মাটিতে পা রাখছেন আজ

# খুলনায় চারিদিকে সাজ সাজ রব #
দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হবে : প্রেস বিফিংয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার : দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ২২ বছর পর আগামীকাল ২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সফরে আসছেন। তার আগমনের ঘোষণায় শহর ও আশেপাশের জেলাজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার সকাল ১১ টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশ সফল করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। কমপক্ষে ১৫ লাখ লোককে একত্রিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ছাড়াও খুলনা মহানগর, জেলা ইউনিট এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই কর্মসূচিকে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম নির্বাচনী সমাবেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দলটি কাজ করছে। এ সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরা জেলার ১৪টি সংসদীয় আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য সমন্বয়, আবাসন, শৃঙ্খলা, মিডিয়া এবং প্রচার সহ ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূল মঞ্চ নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলছে, অন্যদিকে ঢাকা থেকে একটি আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম আনা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের উপর জোর দিয়ে দলীয় কার্যালয়গুলিতে ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, মিডিয়া ব্যবস্থাপনা ও প্রচার কার্যক্রম।
খুলনা শহর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, তারেক রহমানের খুলনা সফর কেবল একটি নির্বাচনী কর্মসূচি নয়, বরং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং মনোবল পুনরুদ্ধারের একটি মুহূর্ত। “যারা দীর্ঘ বছর ধরে আন্দোলন ও সংগ্রামে নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের জন্য এই সফর অনুপ্রেরণার এক নতুন উৎস হিসেবে কাজ করবে। ২২ বছর পর আমাদের প্রিয় নেতাকে তার নিজ শহরে দেখা আমাদের জন্য আবেগ, গর্ব এবং সম্মানের বিষয়।
নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, খুলনা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে তারেক রহমানের এই সফর দলের রাজনৈতিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। “আমরা আশা করছি প্রভাতী স্কুলের সমাবেশে দলীয় কর্মী ও সমর্থকসহ প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ যোগ দেবেন। “এই সমাবেশ দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারে একটি মাইলফলক হবে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তারেক রহমানের প্রথম সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সকল স্তরের নেতা, কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, খুলনা মহানগর ও জেলার বিএনপি ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং কৃষক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন মহাসমাবেশ সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
বিএনপির সাবেক নগর সভাপতি এবং খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রভাতী স্কুল ময়দানে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে চলছে। মাঠ সংস্কার করা হচ্ছে এবং মঞ্চ নির্মাণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি নেতারা অনুষ্ঠানের জন্য সরবরাহ, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত ব্যবস্থা তদারকি করছেন। খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরার বিএনপি প্রার্থীরা তাদের পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তিকে একত্রিত করে প্রভাতী স্কুলের সমাবেশে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে একত্রিত করেছেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির সাবেক নগর সভাপতি এবং খুলনা-২ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রভাতী স্কুল ময়দানে আসন্ন সমাবেশকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সুষ্ঠুভাবে চলছে। মাঠ সংস্কার করা হচ্ছে এবং মঞ্চ নির্মাণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি নেতারা অনুষ্ঠানের জন্য সরবরাহ, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত ব্যবস্থা তদারকি করছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে সমাবেশটি কোনওভাবেই নিরাপদ নয়। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সমাবেশ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জনগণের দৃঢ় সংকল্পের একটি প্রদর্শন। খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরার বিএনপি প্রার্থীরা তাদের পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তিকে একত্রিত করে প্রভাতী স্কুলের সমাবেশে তাদের নিজ নিজ এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে একত্রিত করেছেন বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে তারেক রহমান ২০০৪ সালে খুলনা সফরে এসেছিলেন। তিনি শহরের জিয়া হল অডিটোরিয়ামে তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছিলেন।
জনসভায় খুলনার উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরবেন তারেক রহমান : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় খুলনার বন্ধ মিল-কলকারখানা চালু, দক্ষিণাঞ্চলে পাইপ লাইনে, গ্যাস, সুন্দরবন কেন্দ্রিক ট্যুরিজম, তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) সেক্টরের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ গ্রীণ এবং ক্লিন খুলনার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা করছেন দলের নেতারা। একই সঙ্গে জনসভায় খুলনার উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরবেন তিনি।
রোববার দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে এ জনসভায় কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন নেতৃবৃন্দ।
বিএনপি নেতারা বলছেন, সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানা পুনরায় চালু, খুলনায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং নতুন ইকোনমিক জোন নির্মাণসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নানা পরিকল্পনা দরীয় প্রধানের বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।
প্রেসব্রিফিংয়ে বিএনপ ‘র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনায় আগমন করবেন। সকাল থেকে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে বেলা ১১টায় খালিশপুরের প্রভাতী স্কুলমাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করবেন।
রকিবুল ইসলাম বকুল আরও জানান, জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে জনসভাস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসমাগম নির্বিঘœ করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক মানুষ জনসভায় অংশ নেবেন বলে তিনি আশা করেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। খুলনায় গ্যাস সংযোগ না থাকায় নতুন শিল্প স্থাপন ব্যাহত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন। আর ২২ বছর পর তিনি খুলনা সফরে আসছেন। তার আগমন ঘিরে খুলনাঞ্চলে দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। খুলনা ছাড়াও পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এ জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভায় প্রায় ১৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
তিনি বলেন, খুলনাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবহার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তারেক রহমান ঘোষিত উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং এই অঞ্চলের মানুষ নতুন আশার আলো দেখতে পাবে।
তিনি আরও বলেন, খুলনায় ইকোনমিক জোন নির্মাণ এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে দক্ষিণাঞ্চলের অবদান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নির্বাচনী জনসভায় খুলনাঞ্চলের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালুসহ বিএনপি ঘোষিত দশ দফার বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান কথা বলবেন। এ কারণে খুলনার জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয় বরং খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
প্রেসব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিএনপি নেতা শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু, চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ মহানগর ও জেলা বিএনপি, অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button