১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর এই নির্বাচন দাঁড়িয়ে আছে : ডা. শফিকুর রহমান

প্রবাহ রিপোর্ট : দেশ পরিবর্তনের জন্য আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই নির্বাচন ১৪০০ শহীদ এবং ৩৪,০০০ প্রতিবন্ধীর রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এই নির্বাচন পচা রাজনীতির কবর যা গত ৫৪ বছরের রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করেছে।
জামায়াতে ইসলামির আমির রোববার বিকেলে শহরের সিংহাজানি মাল্টিপারপাস হাই স্কুল মাঠে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন ৮, ১৪, ১৮, ২৪ এর নির্বাচন নয়, ২৬ সালের নির্বাচন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন আয়না ঘরের অন্ধকার যুগের অবসানের পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হ্যাঁ ভোটের উপর জোর দিয়ে আমির বলেন, হ্যাঁ ভোট দিলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, হ্যাঁ মানে স্বাধীনতা এবং না মানে দাসত্ব।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রচারের অংশ নিতে গিয়ে আমির বলেন, আমাদের ৬২ শতাংশ প্রার্থী তরুণ। আগামীকালের বাংলাদেশ তরুণদের বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে আমরা আপনাদের অপমান করতে চাই না। আমরা তাদের কাজ দিতে চাই।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে আমির অন্যান্য ধর্মের মানুষকে বার্তা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ফুলের বাগান এবং আমাদের সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি বাগান গড়ে তোলা উচিত।
জেলা আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সভাপতিত্ব করেন এবং সভার সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল।
অপরদিকে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অন্যতম নির্যাতিত মজলুম দল এই জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করেনি। রোববার শেরপুর শহরের দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত অরুচিকর-কুরুচিকর মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে। আবার এই ঘটনায় একটি দল হৈ-হৈ রৈ রৈ করে মিছিল শুরু করে দিয়েছে। আমি সাবধান করে দিচ্ছি- যারা মা-বোনদের অপমান করছেন, তাদের বিচার বাংলাদেশের জনগণ ব্যালটের মাধ্যেমে জবাব দিবে।’
সমাবেশে নারী কর্মীদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘মায়ের শরীরে হাত দিলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে। যারা নারীদের বিবস্ত্র করতে চায় তারা মানুষ নয়, অমানুষ। জামায়াত নির্বাচিত হলে নারীদের ঘর, চলাচল ও কর্মস্থল নিরাপদ করবে।’
তরুণদের বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে জামায়াত বাংলাদেশের সব জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করবে। আগামীর বাংলাদেশে আমরা যুবকদের পাইলট বানিয়ে যাত্রী হয়ে আকাশে উড়বো। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে যে পেশার যত ওজন, বেতন-ভাতা সেভাবেই উন্নীত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘কোনো চান্দা-বাটপারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে থাকবে না। দলীয়ভাবে আমরা কোনো প্রতিশোধ নেব না। এছাড়া কোনো মামলা বাণিজ্য করব না।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, সাবেক সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল বাতেন, শেরপুর- ১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর- ২ আসনের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া, শেরপুর- ৩ আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জনসাধারণকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে প্রভাবিত না হয়ে তার রেকর্ড, নীতি এবং ইশতেহার দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার সকালে দেয়া এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার রেকর্ড, নীতি এবং ইশতেহার দিয়ে আমাকে বিচার করুন, মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে নয়। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আমার ইশতেহার প্রকাশ করব, যেখানে এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ বিশদভাবে তুলে ধরা হবে।’
ডা. শফিক বলেন, আমাদের অবস্থান ভুলভাবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট প্রচারিত হচ্ছে। আমি আমাদের মূল্যবোধ স্পষ্ট করতে এবং আমাদের নীতি সম্পর্কে আলোচনা পুনরায় কেন্দ্রীভূত করার জন্য এটি শেয়ার করছি।
তিনি বলেন, আমাদের ইশতেহার প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট। আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন, উদ্যোক্তা এবং জনসেবায় নারীদের সক্রিয় ও সম্মানিত করতে চাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা মেয়েদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা, নিরাপদ ক্যাম্পাস, হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, প্রতিটি জেলায় নারী-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, সমান বেতন, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র, শিশু যতœ সহায়তা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
জামাত আমির বলেন, আমরা রাজনীতি এবং স্থানীয় সরকারে নারীর নেতৃত্ব, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক সম্মানকে সমর্থন করি। এগুলি নতুন অবস্থান নয়।
আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে এই নীতিগুলো তুলে ধরেছিলাম এবং গত ২০ জানুয়ারী আমার নীতি সম্মেলনে এগুলো পুনরায় নিশ্চিত করেছি- উল্লেখ করে আমির বলেন, এগুলো গুজব বা অনলাইন গোলমালের প্রতিক্রিয়া নয়, একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ধারাবাহিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তব এবং পরিমাপযোগ্য, মেয়েদের জন্য নিরাপদ শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ, নারী-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা, শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং মহিলাদের জন্য প্রকৃত নেতৃত্ব। যে বাংলাদেশ নারীদের সম্মান করে তা হল এমন একটি বাংলাদেশ যা এগিয়ে যায় এবং এটিই আমরা ভবিষ্যৎ তৈরি করছি।



