একটি পক্ষের হামলাকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, ইসিতে এনসিপির অভিযোগ

প্রবাহ রিপোর্ট : চলমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিতর্কিত ভূমিকা এবং দেশজুড়ে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এনসিপির প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের এসব কথা জানায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত। কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত বলেন, বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী জনসভায় প্রকাশ্যে বলেছেন যে, তাদের প্রার্থী বাছাইয়ে পুলিশ, এনএসআই এবং ডিজিএফআইয়ের জরিপ ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যদি একটি দলের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করে, তবে তারা নির্বাচনে কতটা নিরপেক্ষ থাকবে? এটি অত্যন্ত অ্যালার্মিং। আয়মান রাহাত আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণার পরই বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়েছেন ঋণগ্রহীতাদের তথ্য চেয়ে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এমন ব্যবহার নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এনসিপি ওই কর্মকর্তার দ্রুত প্রত্যাহার দাবি করেছে। নোয়াখালীর হাতিয়া ও শেরপুরের ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নোয়াখালী-৬ আসনে ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও জামায়াতের ওপর হামলার ভিডিও ফুটেজ থাকলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো প্রশাসনের কর্মকর্তারা হামলাকারীদের পক্ষ নিচ্ছেন। এছাড়া শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় জামায়াত নেতা খুনের ঘটনায় আসামিরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি আরও বলেন, আসন্ন গণভোট নিয়ে বিভিন্ন মহলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে যাবে, এমন বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে ইসিকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাই। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অনলাইনে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আয়মান রাহাত বলেন, হামলার তিন-চার দিন পার হয়ে গেলেও যখন কেউ গ্রেপ্তার হয় না, তখন আশ্বাসের কোনো মূল্য থাকে না। একটি নির্দিষ্ট পক্ষ যখন অনবরত হামলা করে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।



