গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন
ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ততই বেড়ে চলেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার, রঙিন ব্যানার, বিশাল ডিজিটাল সাইনবোর্ডের ছড়াছড়ি এখন চোখে পড়ার মতো। অথচ নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, এবার পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ব্যানার-ফেস্টুন কেবল সাদা-কালো রঙে সীমাবদ্ধ থাকার কথা। আইন অমান্য করলে জরিমানা, জেল এমনকি প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রার্থীরা নিয়ম মানতে অনাগ্রহী এবং নিজেদের সুবিধার জন্য বিধি লঙ্ঘনকে স্বাভাবিক করে তুলছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক প্রার্থী মিথ্যা যুক্তি দাঁড় করিয়ে রঙিন ব্যানার ব্যবহারের বৈধতা দাবি করছেন। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য কেবল আইনকে অমান্যই করছে না, বরং জনগণের আস্থাকে ক্ষুণœ করছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের শেষ সময়ে এই বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে এবং নির্বাচনি পরিবেশকে অশান্ত করে তুলতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ‘যেকোনো মূল্যে জয়লাভের’ মানসিকতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করছে। এখন সময় এসেছে নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার। শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রমাণ হয় কমিশন কার্যকর এবং নিরপেক্ষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরও সক্রিয় হতে হবে এবং দলমত নির্বিশেষে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত এই বিশাল নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কিছু প্রার্থীর স্বেচ্ছাচারিতার কাছে জিম্মি হতে দেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত অবিলম্বে সব অবৈধ পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা এবং যারা নিয়ম মানছেন না তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা। দৃশ্যমান পদক্ষেপ ছাড়া জনমনে আস্থা তৈরি হবে না। যদি কমিশন এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব নয়, বরং শক্তিশালীদের পেশিশক্তির প্রদর্শনীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো ন্যায়, শৃঙ্খলা ও আস্থা। নির্বাচন কমিশন যদি দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে আসে, তবে এই নির্বাচন জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। আর যদি তারা ব্যর্থ হয়, তবে গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা আরও দুর্বল হবে। তাই এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
