দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজ প্রাক্তন অধ্যক্ষ আঃ লতিফ অর্থ আত্মসাৎ মামলায় কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে দৌলতপুর মহসিন মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ অর্থ আত্মসাতের মামলার দায়ে কারাগারে। মামলার সূত্রে জানা যায়, অর্থ আত্মসাৎ বিষয় ১২ আগস্ট ২০২৫ খুলনা বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট’র আমলী আদালতে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই কে দায়িত্ব দেন । পিবিআই তদন্ত শেষে দৌলতপুর মহাসিন মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ এর বিরুদ্ধে ২৩৯/২৫ নং মামলার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত দৌলতপুর মহাসিন মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। সমন জারির প্রেক্ষিতে উক্ত আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান।তবে আদালত দীর্ঘাক্ষন শুনানির পর জামিন না মঞ্জুর করে আসামিকে (সিডব্লিও) কাস্টরি ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি)-২৬ কারাগারে প্রেরণ করেন। এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়,মহসিন মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ কলেজের সঙ্গে কোন প্রকার সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে আসিনকৃত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবিরের সাথে নিয়মিত কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে বিভিন্ন কুটকৌশলে লিপ্ত হচ্ছেন।এর ফলে এ অঞ্চলের স্বনামধন্য মহাসিন মহিলা কলেজটি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চালানোর পরিকল্পনা চলছে। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার পথে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতপুর মহাসিন মহিলা কলেজে প্রাক্তন অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির দায়ে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করলে অবৈধ দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজী কবির বিভিন্ন দলের নেতাদের কাছে গিয়ে ছাড়িয়া আনার জন্য তদবির ও দৌড়ঝাপ করছেন। কলেজ সূত্রে জানা যায়,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব কলেজের উপাধ্যক্ষ মাহফুজার রহমানকে দিয়ে ৩টি পত্র প্রেরণ করলেও নওরোজী কবির খামখেয়ালিভাবে বিধিবহির্ভূত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের আদেশ অমান্য করার বিষয়ু তদন্ত চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, দৌলতপুর মহাসিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ ১৪ আগস্ট অবসরে যান। তবে অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ কে গত ৩১ জুলাই ২০২৫ বিগত ১০ বছরের অডিট হিসেবে এক কোটি ২১ লক্ষ ৮২ হাজার ৬৭৪ টাকা আত্মসাদের দায়ে কলেজ পরিচালনা পরিষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। উক্ত টাকা আত্মসাৎ বিষয় ১২ আগস্ট ২০২৫ খুলনা বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট’র আমলী আদালতে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল লতিফ ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ আমলে তৎকালীন সভাপতি সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট, এনওসি ও নিয়োগ পত্রের যথাযথ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ছিলেন। বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সাবেক কর্মস্থল মহেশ্বরপাশা শহীদ জিয়া কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে প্রায় ৮ বছর উক্ত কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত ছিলেন।



