সুরক্ষায় দরকার জবাবদিহি ও সংস্কার

মানবাধিকার পরিস্থিতি
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর নানা সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব হামলা, সাংবাদিক নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং সীমান্তে হত্যার ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে রাজনৈতিক সংঘাতে ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। মব সহিংসতায় আরও ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও হয়রানির ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ-শুধু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক হাজারের বেশি নারী ও শিশু, যাদের মধ্যে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনাও মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই চিত্র স্পষ্ট করে যে দেশে আইনের শাসন দুর্বল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রবল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী না হলে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হবে না। রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজন জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে হবে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সীমান্তে হত্যার বিষয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ওপর নির্ভরশীল। সংস্কার ও পরিবর্তনের উদ্যোগ কেবল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। অন্যথায় সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই প্রবণতা আরও গভীর সংকটে রূপ নেবে।
