জাতীয় সংবাদ

শিশু আয়ানের মৃত্যু: ৩ চিকিৎসককে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট

প্রবাহ রিপোর্ট : চিকিৎসায় অবহেলা ও হাসপাতালের দায়িত্বহীনতার অভিযোগে শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ গুরুতর তথ্য তুলে ধরে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন। প্রায় দুই বছর পর দাখিল হওয়া এই চার্জশিটে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পেশাগত গাফিলতির কারণেই শিশুটির মৃত্যু ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের পক্ষ থেকে ঢাকার জজ কোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তিন চিকিৎসককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- ডা. তাসনুবা মেহজাবিন, ডা. সাঈদ সাব্বির আহমেদ এবং ডা. নাজিম উদ্দিন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের মারাত্মক অবহেলা ছিল, যা শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণহানির কারণ হয়। মামলার বাদী ও নিহত আয়ানের বাবা মো. শামীম আহমেদ বলেন, পুলিশের দাখিল করা চার্জশিট বর্তমানে আদালতে গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর হলেও তদন্তে সত্য প্রকাশ পাওয়ায় তিনি ন্যায়বিচারের বিষয়ে আশাবাদী বলে জানান। তিনি বলেন, এই মামলায় গণমাধ্যমের ধারাবাহিক ভূমিকা না থাকলে বিষয়টি হয়তো ধামাচাপা পড়ে যেত। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মামলাটি শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করার আহ্বান জানান। আয়ান আহমেদ রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর সাতারকুল বাড্ডা এলাকার ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফুল অ্যানেস্থেশিয়া দিয়ে তার খতনা করানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ প্রক্রিয়া অভিভাবকদের পূর্বানুমতি ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়। খতনার পর আয়ানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) টানা সাত দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button