স্থানীয় সংবাদ

মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশ বদলাতে চায় : মিয়া গোলাম পরওয়ার

# বটিয়াঘাটা বাজার চত্বরে বিশাল নির্বাচনী জনসভা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আচরণবিধি লংঘন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে তাদের কোন কার্ডের প্রলোভনে আর জনগণ পড়বে না, বরং এবার তাদের সবাইকে লাল কার্ড
দেখাতে হবে। জনগণ এখন রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়। মানুষ লাঙ্গল, নৌকা ও ধানের শীষে ভোট দিয়েছে, এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেশ বদলাতে চায়। তার মতে, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অর্থপাচার ও দমন-পীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। তিনি বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার বটিয়াঘাটা বাজার চত্বরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখা আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
বটিয়াঘাটা উপজেলা জামায়াত আমীর মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন খুলনা-১ আসনের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাষ্টার শফিকুল আলম, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুফতি মাওলানা আব্দুল কাউয়ুম জমাদ্দার, কেলাফত মজলিসের জেলা সহ-সভাপতি এডভোকেট মুফতি ফিরোজুল ইসলাম, হরিণটানা থানা আমীর মো. আব্দুল গফুর, হাফেজ মাওলানা আশরাফ আলী, শ্রমিক নেতা মাহবুবুল আলম মিলন, মু. আর আমিন গোলদার, মলয় মন্ডল, এনসিপি নেতা নজরুল ইসলাম, মুফতি সালীমুল্লাহ, এডভোকেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস, মো. জসিম, মো. আব্দুল হাই বিশ্বাস, এডভোকেট মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান, মাওলানা হুমায়ুন কবীর, সেলিম বাহার, শাফায়েত হোসেন লিখন, মো. গালিব উদ্দিন, হাফেজ ক্বারী খালিদ বিন কাশেম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধাবী ছাত্ররাই পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে- অপপ্রচার আর টিকবে না। তিনি বলেন, তরুণদের এই পরিবর্তনের আকাঙ্খাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। ১১ দলীয় ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইসলামী চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনা- এই তিনটি চেতনাকে একত্র করে আমরা একটি মানবিক, ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই। বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ছিল না, কিন্তু চাঁদাবাজি, দখল ও মানুষ হত্যা থেমে যায়নি। বাজারে, ঘাটে, হাটে যাদেও চাঁদাবাজি হয়েছে- মানুষ জানে কারা করেছে।
সংখ্যালঘু ইস্যুতে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “হিন্দুদের ভয় দেখানো হচ্ছে- দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে শাখা-সিঁদুর থাকবে না, বোরকা পরতে হবে। এসব নির্লজ্য মিথ্যা। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, হিন্দু হয়েও কৃষ্ণনন্দী যদি এমপি হন, তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। এজন্য তিনি খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহবান জানান।
নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে আমাদের মায়েদের বোরকা টেনে খুলে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি পেটে লাথি মারা হচ্ছে। যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মায়ের কাপড় খুলতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে পুরো জাতিকেই বিবস্ত্র করতে চাইবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button