উদ্বেগজনক মানবাধিকার পরিস্থিতি

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাস
গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং অধিকার যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা আমাদের সামনে এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা, কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা—সব মিলিয়ে এই সময়টি মানবাধিকারের জন্য ছিল চরম সংকটময়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক সংঘাতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার। নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানি ঘটেছে, নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও তাদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা বেড়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। নারী ও শিশু নির্যাতনের সংখ্যা দুই হাজারের বেশি, গণপিটুনিতে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। কারাগারে মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক, যার মধ্যে নির্যাতন ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। এই চিত্র স্পষ্ট করে যে অন্তর্বর্তী সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করে যে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসব মৌলিক দায়িত্ব পালিত হয়নি। ফলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়েছে। আগামী দিনে নির্বাচিত সরকারের অধীনে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে প্রথমেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ করতে হবে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারাগারে মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
