চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনে জড়িত ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন

এফএনএস: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা আন্দোলনকারী সেই ১৫ কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দাকে (এনএসআই) চিঠিতে অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত এই ১৫ জন কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। চলমান তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার অনুরোধ করা হয়েছে। একই চিঠিতে দুদককে তাদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা পাওয়া কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন- চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির, সমন্বয়ক ও শ্রমিক দলের নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবির, মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী। চিঠির ব্যাপারে জানতে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বন্দরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাছে এর সত্যতা স্বীকার করেন। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ছয় দিন কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরা। এর মধ্যে প্রথম তিন দিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ এর সঙ্গে জড়িত ৩১ জনকে তিন দফায় বদলি করে। এদিকে, শুক্র ও শনিবার কর্মবরতি কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকালে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে নৌ উপদেষ্টার আশ্বাস অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামীকাল রোববার থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।



