নগরীতে চাঁদার দাবিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা

৯ লাখ টাকা লুট, পুলিশকে জানানোয় বাড়িতেও গুলি
স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদার দাবিতে খুলনার শেখপাড়া লোহাপট্টির একটি দোকানে গত বৃহস্পতিবার বিকালে তালা ঝুলিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সেই তালা ভেঙে দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৯ লাখ টাকা লুট করা হয়। এ খবর পুলিশকে জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা নগরীর নবীনগর এলাকায় অবস্থিত ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। এ ঘটনায় পুরো শেখপাড়া ও নবীনগর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেখপাড়ার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহে বাজারের ব্যবসায়ী মো. সাজ্জাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ। চাঁদার অঙ্ক কমানো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দেন দরবার চলছিল। বৃহস্পতিবার মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় বিকালে সাজ্জাদের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয় ওই সন্ত্রাসীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সন্ত্রাসীরা আবার এসে দোকান খুলে ক্যাশ বাক্স ভেঙে প্রায় ৯ লাখ টাকা নিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে সাজ্জাদ, তার মামা আবুল হোসেন ও ইস্রাফিল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাজ্জাদের নবী নগরের বাড়ি গিয়ে তিন রাউন্ড গুলি করে সন্ত্রাসীরা। তারা বাড়ির সিসি ক্যামেরাও ভাঙচুর করে। শুক্রবার সকালে শেখপাড়া লোহাপট্টি এলাকায় গেলে সন্ত্রাসীদের তৎপরতার বিষয়ে নানা তথ্য জানান ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। তবে ভুক্তভোগীরা কেউ এনিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
নবীনগরের বাড়িতে গিয়ে পুরো পরিবার ও এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত দেখা যায়।
সাজ্জাদের মা বলেন, ‘প্রথমে ওরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা চায়। আমার ছেলে ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। ওরা রাজি না হওয়ায় ৮ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তাতেও রাজি না হওয়ায় শুক্রবার দোকানে তালা এবং ক্যাশ বাক্স ভেঙে ৯ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। আমার বাড়ি এসে তিনটি গুলি করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাড়িতে গুলির পর ফোনে হুমকি দিয়েই যাচ্ছে। এখন বলছে, সব টাকা দিতে হবে। প্রকাশ্যে মাফ চাইতে হবে না হলে তিন দিনের মধ্যে লাশ পড়বে।’
শেখপাড়ার ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠে দবি-কোম্পানী’ নামে সন্ত্রাসীদের ঐ গ্রুপটি। আদালত এলাকায় জোড়া খুনসহ প্রকাশ্যে একাধিক হত্যাকা- ঘটিয়ে আতঙ্কের নামে পরিণত হয়েছে তারা। শেখপাড়ার ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা আদায় নিয়মিত ঘটনা। এলাকার বড় ব্যবসায়ী প্রায় সবাইকে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে। তাদের সদস্যদের অনেকের বাড়ি শেখপাড়া। তারা ধরা পড়লেও দ্রুত জামিন পেয়ে যায়। মোড়ে মোড়ে ওদের সোর্স থাকায় এসবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কারও শব্দ করার সাহস নেই।’
ঘটনাস্থলে তদন্তে আসা সোনাডাঙ্গা থানার এস আই খালিদ হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। সার্বিক বিষয় আমরা তদন্ত করছি। কিন্তু ভুক্তভোগীরা কোনো সহযোগিতা করছে না।



